সমস্যাটা নাক ডাকা নিয়ে। ঘুমের সময় নিয়ন্ত্রণহীন নাসিকা গর্জনের জের আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এমন বিস্তর উদারহরণ রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান নাকের এহেন তর্জন গর্জনের এখনও পর্যন্ত কোনো সুখকর সুরাহা করে উঠতে পারেনি। ডাক্তারবাবুদের পরামর্শ পাশ ফিরে, চিৎ কিংবা উপুড় হয়ে শুয়ে হয়তো নাক ডাকায় কিঞ্চিৎ লাগাম দেওয়া যেতে পারে, তবে পুরোপুরি শব্দহীন শয়ন সুখ অসম্ভব। সায়েন্স এখনও নাকে সাইলেন্সার লাগানোর প্রযুক্তি আবিষ্কার করে উঠতে পারেনি। তাই ঘুমন্ত অবস্থায় নাক নিয়ে নাকানি চোবানি চলছেই। সেই সমস্যা নিয়েই বেলঘরিয়া থিয়েটার আকাদেমির নতুন নাটক ‘নাসিকা ঝঞ্ঝাট’। মঞ্চস্থ হল বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষ্যে ‘সহজিয়ায় নাট্য সংস্থা’র আয়োজনে যোগেশ মাইম আকাদেমিতে দু’দিন ব্যাপী নাট্য উৎসবের প্রারম্ভিক সন্ধ্যায়। নাটকটির রচনাকার ও পরিচালক অমিতাভ ভট্টাচাৰ্য পেশায় চিকিৎসক। তার উপর নাক-কান-গলার গন্ডগোল নিরাময়ে বিশেষজ্ঞ। সুতরাং গোটা নাটকটির শরীরে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের পরত লেপে থাকে। ব্রজসু্ন্দর ও নয়নতারা দুজনেই ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে। তবে ধরন আলাদা। ব্রজসুন্দরের নাক ডাকায় বজ্রপাতের চমকানি। নয়নতারার নাসিকা গর্জনে নিষ্ঠার নৈপুন্য। ঘুমের মধ্যে নাগাড়ে, সুরে বেসুরে ননস্টপ নাক ডাকে নয়নতারা। কিন্তু একটানা ঘুমোতে পারলে তো! একই শয্যায় স্বামীর নাক থেকে মুহুর্মূহু ব্রজপাত ঘটতে থাকলে সারা রাত ঘুম হবে কি করে? এই নিয়ে চূড়ান্ত দাম্পত্য কলহ। মিউচুয়াল ডিভোর্সের আর্জি নিয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই হাজির হয় উকিল বিপদতারণ বটব্যালের চেম্বারে। কিন্তু ভয়ংকর নাক ডাকার অপরাধে বউ-বিতাড়িত বিপদতারণ এই কেস নিতে অপারগ। তাহলে? সেটাই স্বল্প দৈর্ঘের নাটকটির ক্লাইম্যাক্স।
হাস্যরসে মোড়কে এমন একটি সমস্যাকে সংলাপে ও নাটকীয়তায় তুলে ধরেছেন অমিতাভ, যেটি সত্যিই দুর্দান্ত। নাক ডাকাটা যে শুধু মাত্র হাসির খোরাক নয়, বিপদেরও ইন্ধন হতে পারে সেটাও প্রয়োগ নৈপুন্যে সচেতন করে দিয়েছেন লেখক, পরিচালক অমিতাভ। বিপদতারণ চরিত্রে তাঁর অভিনয়ও অনবদ্য। জয়শ্রী চক্রবর্তী (নয়নতারা), দেবাশিস সেনগুপ্ত (ব্রজসুন্দর) প্রাঞ্জল অভিনয়ে নাটকে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে দেন। ছোট্ট ভূমিকায়, স্বল্প উপস্থিতিতে স্নেহা হাজরা (মিস লুনা) চমৎকার। যোগ্য সঙ্গত করলেন অমিত ঘোষ (আবহ), প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায় (মঞ্চ) প্রমুখ।