• ৭৯০০০ কোটি টাকার ক্ষতি ভারতের রেস্তোঁরা শিল্পে, কেন এমন হলো?
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • দেশ জুড়ে বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সরবরাহে সঙ্কটের জেরে ব্যাপক সমস্যার মুখে দাঁড়িয়ে ভারতের রেস্তোরাঁ শিল্প। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, এই খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৭৯,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ন্যাশনাল রেস্তোঁরা অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI)-এর একটি অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অনুযায়ী, এই সঙ্কটের কারণে শিল্পের সামগ্রিক উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে গিয়েছে।

    এলপিজি সরবরাহে ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রেস্তোরাঁগুলির দৈনন্দিন কাজে। দেশের প্রায় ১০ শতাংশ রেস্তোরাঁ সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্য দিকে, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বাধ্য হয়ে ইনডাকশন, বিদ্যুৎ বা পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG)-এর মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে রেস্তোরাঁগুলি কাজের সময় কমাচ্ছে, মেনুতে কাটছাঁট করছে এবং খরচ কমানোর চেষ্টা করছে।

    এই সঙ্কট থেকে রেহাই পায়নি বড় রেস্তোরাঁ চেইনগুলিও। ভারতে Domino’s ও Popeyes পরিচালনা করে জুবিল্যান্ট ফুডওয়ার্ক। তারা জানিয়েছে, সারা দেশে এলপিজি সরবরাহে বাধার কারণে তাদের ব্যবসায় চাপ তৈরি হয়েছে। এই সংস্থা বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে এবং বিদ্যুৎ, PNG ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

    শিল্প সূত্রে জানা যাচ্ছে, একাধিক বড় কুইক সার্ভিস রেস্তোরাঁ (QSR) চেইন এখন মাত্র ৫০ শতাংশ ক্ষমতায় কাজ করছে। অনেক জায়গায় একটি এলাকার তিনটি দোকানের মধ্যে একটি বন্ধ রাখা হচ্ছে, একটি কম সময় খোলা থাকছে এবং একটি স্বাভাবিক ভাবে চালানো হচ্ছে। এমনকী একাধিক দোকানের ডেলিভারি এখন একটি দোকান থেকেই করা হচ্ছে, ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ডেলিভারিতেও দেরি হচ্ছে।

    এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে গ্রাহকদের আচরণেও। গ্রাহকদের মধ্যে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমেছে। প্রতি গ্রাহকের গড় খরচ কমেছে ৬ থেকে ৮ শতাংশ। মেনুতে কাটছাঁটের জেরে গ্রাহকদের পছন্দের পরিসরও কমে গিয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় উচ্চ দামে এলপিজি সিলিন্ডারের কালোবাজারিও শুরু হয়েছে, যা ব্যবসার খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে উঠে এসেছে রিপোর্টে।

    ভারতের রেস্তোরাঁ শিল্প পরিষেবা খাতে তৃতীয় বৃহত্তম। রিটেল ও বিমা খাতের পরেই এর অবস্থান। ২০২৬ সালে এই শিল্পের সম্ভাব্য টার্নওভার প্রায় ৬.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। এই শিল্পে সরাসরি কর্মসংস্থান রয়েছে ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষের। এই সঙ্কট দীর্ঘদিন চললে ৫ থেকে ৭ লক্ষ চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • Link to this news (এই সময়)