এই সময়, ঘাটাল: ধুমধাম করে মিছিল করে দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে যাচ্ছিলেন মনোনয়ন জমা করাতে। কড়া রোদে দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গেই প্রার্থীর সঙ্গে মিছিলে হাঁটছিলেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। কিছুটা যেতেই বিপত্তি। মিছিলে ভিড়ের চাপে সাংসদের চটি ছিঁড়ে যায়। ভিড়ের মধ্যে আর তাকে খুঁজে পাননি তিনি। বিষয়টি জানাজানি সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বে ভেবে কাউকে কিছু না জানিয়ে রোদের মধ্যে খালি পায়েই হাঁটলেন। প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন জমার পর্ব মিটে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
বৃহস্পতিবার চন্দ্রকোণা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলইয়ের মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে এই ঘটনায় মিতালির অবশ্য বক্তব্য, ‘চটি ছিঁড়ে যাওয়া বিপাকে পড়ে যাই। ভিড়ের মধ্যে চটিটাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তার উপর রোদে রাস্তা তেতে আছে। ভাবলাম এটা জানাজানি হলে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বেয়। তাই কিছু না বলে এগিয়ে যাই।’ ওই অবস্থাতেই দলের প্রার্থীকে নিয়ে মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছে সেখানে মনোনয়ন জমার ব্যবস্থা করেন। সাংসদ ছাড়াও সেখানে ছিলেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি হীরালাল ঘোষ, সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী–সহ বিধানসভার শতাধিক নেতা–কর্মী। চন্দ্রকোণা থেকে মোটরবাইক মিছিল করে ক্ষীরপাই ঘুঘুডাঙা কালীমন্দিরে পুজো দেওয়া হয়। সেখান থেকে মোটরবাইক মিছিল পৌঁছয় ঘাটাল বিবেকানন্দ মোড় এলাকায়। বিবেকানন্দ মোড় থেকে ঘাটাল মহকুমাশাসক কার্যালয়ের দূরত্ব প্রায় দু’কিলোমিটার। সেখান থেকে হাঁটতে গিয়েই এই ঘটনা ঘটে। মনোনয়ন জমার পর্ব মিটে গেলে বিষয়টি সবাই জানতে পারেন। পরে সেখান থেকেই নতুন জুতো কিনে তা পরে বাড়ি ফেরেন মিতালি।
মিতালি বলেন, ‘ভিড়ের মধ্যে জুতো খুঁজতে গেলে আমিই হয়তো চাপা পড়ে যেতাম। তাই কাউকে কিছু বলিনি। তবো গ্রামের মেয়ে তো, খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস আমার রয়েছে।’ এর পরে আর চটি পরে মিছিলে হাঁটবেন? সাংসদের উত্তর, ‘চটি পরে হাঁটলে স্বস্তি পাই, জুতো কিংবা স্নিকার্সে ততটা অভ্যস্ত নই আনি।’ সূর্যকান্ত দোলই বলেন, ‘আমরা কেউউ টের পাইনি। দিদিও আমাদের কাউকে বুঝতে দেননি। মনোনয়ন জমার পরে বাইরে এসে বিষয়টি জানতে পারি। উনি সাংসদ হয়েও সাধারণ জীবন যাপন করেন। প্রচুর মানুষের মাঝে উনি কাউকে কিছু না জানিয়ে এতটা পথ খালি পায়ে হেঁটেছেন শুনে অবাক হয়েছি।’
চন্দ্রকোণার বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত দোলই অবশ্য এটাকে নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাংসদ হওয়ার আগে ওঁরর জীবনযাত্রা সাধারণ ছিল। এখন উনি অসাধারণ হয়েছেন। মনোনয়নের দিন তৃণমূল সাংসদ পায়ের জুতো হারিয়েছেন। ৪ মে ওঁর নেত্রীর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে। এ সব নাটক ছাড়া আর কিছু নয়।’