রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ায় আপ নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন দলের তরুণ সাংসদ রাঘব চড্ডা। অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, তাঁকে কেন 'চুপ' করানো হচ্ছে? তাঁর দাবি, তিনি বরাবর সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়েই সংসদে সরব হয়েছেন।
রাঘবকে ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরানো হয়েছে জানিয়ে বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভার সচিবালয়কে চিঠি দিয়েছিল আপ। শুধু তা-ই নয়, ভাষণের জন্য তাঁকে দলের কোটা থেকে সময় দেওয়ারও প্রয়োজন নেই বলে চিঠিতে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যসভার সচিবালয় যাতে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ করে, সেই আর্জিই জানিয়েছিলেন আপ নেতৃত্ব। তা নিয়েই শুক্রবার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাঘব।
ভিডিয়োবার্তায় রাঘব বলেছেন, 'আপ নেতৃত্ব রাজ্যসভাকে বলেছেন, আমায় যাতে আর বলতে দেওয়া না হয়। কিন্তু কেন? আমি তো বরাবর সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাই বলেছি সংসদে। বিমানবন্দরের দামি খাবার, গিগ কর্মীদের সমস্যা, ব্যাঙ্কের বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আপের কী ক্ষতি হল? আমায় কেন চুপ করানো হচ্ছে?'
রাঘবকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, 'আমাদের নেতারা জেলে ছিলেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই সময় আপনি দেশে ছিলেন না। আপনি অন্য কোথাও গিয়ে লুকিয়ে ছিলেন। বিজেপির চাপ সত্ত্বেও আমাদের আসল সমস্যাগুলো নিয়ে সরব হতে হবে। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে সরব হয়ে কিচ্ছু হবে না।'
আপ সূত্রের খবর, দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে অনেক দিন আগেই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল রাঘবের। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দিল্লিতে আবগারি মামলায় কেজরিওয়াল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার গ্রেপ্তারি নিয়ে সংসদে সেই ভাবে সরব হননি তিনি। শুধু তা-ই নয়, দলীয় প্রতিবাদ-কর্মসূচিতেও তাঁকে সেই ভাবে দেখা যায়নি। তা নিয়ে বার বার বিরোধীদের কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছে আপকে। সম্প্রতিই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন কেজরি এবং মণীশ। ঘটনাচক্রে, তার পরেই রাঘবকে রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিলো আপ। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাংসদ অশোক মিত্তল।
আপের জন্মলগ্ন থেকে দলের সদস্য রাঘব। ২০১৫ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিতে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দলে তাঁর উত্থান শুরু হয়। শুরুর দিকে জাতীয় মুখপাত্র ছিলেন রাঘব। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে দক্ষিণ দিল্লির প্রার্থীও হয়েছিলেন। কিন্তু হেরে গিয়েছিলেন বিজেপির রমেশ বিদুরির কাছে। পরের বছর দিল্লি বিধানসভা ভোটে রাজেন্দ্র নগরের প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সে বার অবশ্য জিতেছিলেন। পরবর্তী কালে দিল্লি জলবোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন রাঘব। ২০২৩ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায় আপ।