এই সময়, মেদিনীপুর: বিতর্কের কেন্দ্রে একটি ডিজে গাড়ি। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর, শালবনি ও গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের তিন প্রার্থী — সুজয় হাজরা, শ্রীকান্ত মাহাত এবং উত্তরা সিংহ হাজরা একত্রে একটি বিশাল মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিতে যান। মেদিনীপুরের কলেজিয়েট স্কুলের মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই সুসজ্জিত মিছিলে ঢাক-ঢোল, ধামসা-মাদল এবং আদিবাসী নৃত্যের আয়োজন ছিল নজরকাড়া।
শুধু মিছিলের শেষে থাকা একটি ডিজে গাড়ি নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। সেই ডিজে মারফত তৃণমূলের প্রচারমূলক গান ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ বাজানো হচ্ছিল। অভিযোগ তারস্বরে সেই গানের শব্দ শুনে আশেপাশের অনেক বাসিন্দা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। শহরের রাস্তায় সাধারণত ধর্মীয় শোভাযাত্রা ছাড়া ডিজে ব্যবহারের প্রচলন কম থাকায় বিষয়টি অনেকের চোখে অস্বস্তিকর বলে মনে হয়েছে। তিন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও, ডিজের গাড়িতে বাঁধা ছিল মেদিনীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী সুজয় হাজরার ব্যানার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মত, মনোনয়নের মতো গুরুতর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রই যথেষ্ট ছিল। ডিজে না থাকলেও চলত। আবার অন্য অংশের বক্তব্য, এটি প্রার্থীদের কাছে আনন্দের দিন। তাই সীমিত পরিসরে উদযাপন করায় দোষের কিছু নেই।
মেদিনীপুরের প্রার্থী, জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজয়ের দাবি, কিছু কর্মী-সমর্থক নিজেদের উদ্যোগে ডিজে–র আয়োজন করেছিলেন। নেতৃত্বের মূল অংশ মিছিলের সামনে থাকায় বিষয়টি প্রথমে তাঁদের নজরে আসেনি। তিনি বলেন, ‘ডিজে–তে শুধুমাত্র দলীয় গানই কম শব্দে বাজানো হয়েছে। কোনও ধরনের উচ্চস্বরে বা অপ্রাসঙ্গিক গান বাজানো হয়নি।’ পাল্টা শহরের বাসিন্দা শ্যামলী দাস, বঙ্কিম পাঁজারা বলছেন, ‘নির্বাচনের সময়ে অনেকেই এমন মিছিল করে। এটা ওদের কাছে আনন্দের দিন। কারও যাতে অসুবিধে না হয়, সেদিকেও রাজনৈতিক দলগুলির নজর রাখা উচিত।’
মেদিনীপুর, শালবনি, গড়বেতা — তিন কেন্দ্রের তিন প্রার্থী একই মিছিলে সামিল হলেও, এই মিছিলের পিছনে শহরের রবীন্দ্রনগরের ফেডারেশন অফিস থেকে পৃথক মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিতে যান কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা।