• ‘বিচারকদের উদ্ধারে দেরি হয়েছিল...’, কালিয়াচকের ঘটনায় মানলেন উত্তরবঙ্গের এডিজি
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • জুডিশিয়াল অফিসারদের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলেও যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। তবে আটক বিচারকদের উদ্ধারে দেরি হয়েছিল বলে মেনে নিলেন উত্তরবঙ্গের এডিজি কালিয়াপ্পান জয়রামন। বুধবার কালিয়াচকে বিচারকদের ১৫ ঘণ্টারও বেশি ঘেরাও করে রাখা ও তাঁদের উপর হামলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসিত রাজ্য সরকার। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের মতে,‘রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা একেবারে ভেঙে পড়েছে।’ সেই দিন কোথাও না কোথাও যে ফাঁক ছিল, তা শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বীকার করে নিলেন উত্তরবঙ্গের এডিজি। কেন এই বিলম্ব ও কোথায় এই ফাঁক তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    কালিয়াচকের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে তৎপর রাজ্য পুলিশ ও CID। বুধবার ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার কেসের নিষ্পত্তি করতে কালিয়াচকের বিডিও-২ অফিসে গিয়েছিলেন সাত বিচারক। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন মহিলা। দীর্ঘক্ষণ তাঁদের ঘেরাও করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। সেই সময়েও তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত বিচারকরা অভিযোগ করেছেন, পুরো ঘটনার সময়ে তাঁরা পুলিশের দেখা পাননি। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন বলেন,‘এরকম কিছু নয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এমন নয়। ওঁরা আটকে ছিলেন, ভয় পেয়েছিলেন, তাই এমন বলছেন। তবে ওঁদের উদ্ধারে বিলম্ব হয়েছিল। কেন, কী কারণে তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’ রাত বারোটার আগেই বিচারকদের উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানান উত্তরবঙ্গের এডিজি। নিরাপত্তায় ফাঁকের বিষয়টি যে একবারে ভুল নয়, তারও ইঙ্গিত মিলেছে কে জয়রামনের কথায়। ঘটনায় তদন্তের পর রিপোর্ট দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রসঙ্গত, এ দিন সকালেই বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে কালিয়াচকের ঘটনায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে CID। মোফাক্কেরুলকে গ্রেপ্তারের পরে এডিজি কে জয়রামন বলেন, ‘আমরা মনে করছি, মালদার বিভিন্ন হিংসার ঘটনায় এই ব্যক্তি অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী। উনি একজন আইনজীবী। ইটাহারে থাকেন। তিনি মানুষকে প্ররোচনা দিয়েছেন, তা একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে। আমরা তাঁকে ট্র্যাক করছিলাম। সিআইডি বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে শিলিগুড়ি পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।’ এই ঘটনার প্ল্যান আগে থেকেই করা হয়েছিল কি না, তার তদন্ত করা হবে জানিয়েছেন তিনি।

    একইসঙ্গে পুলিশ সূত্রে খবর, মালদা কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। মালদার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন মোট ৩৬ জনকে।

  • Link to this news (এই সময়)