বিমানবন্দরে শিঙাড়ার দাম নিয়ে কথা বলে কী হবে! গোটা দেশের সামনে অনেক বড় সমস্যা রয়েছে। সংসদে কম সময়ের মধ্যে সেই সব বিষয় নিয়ে সরব হওয়া জরুরি বিরোধী সাংসদদের। কিন্তু রাঘব চাড্ডা তা করছিলেন না। উল্টে, সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর নরম মনোভাবই বার বার প্রকাশ পেয়েছে। শুক্রবার আপ সাংসদ রাঘবকে এই ভাষাতেই বিঁধলেন তাঁর দলের নেতারা।
বৃহস্পতিবার রাঘবকে রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন আপ নেতৃত্ব। শুধু তা-ই নয়, ভাষণের জন্য তাঁকে দলের কোটা থেকে সময় দেওয়ারও প্রয়োজন নেই বলে রাজ্যসভার সচিবালয়কে জানিয়েছেন তাঁরা। এর পর শুক্রবার তা নিয়ে মুখ খোলেন রাঘব। ভিডিয়োবার্তায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, 'আমায় কেন চুপ করানো হচ্ছে? আমি তো বরাবর সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়েই কথা বলেছি।'
রাঘবের এই ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ্যে আসার পরেই সৌরভ ভরদ্বাজের মতো আপের শীর্ষনেতারা একে একে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেন। ভিডিয়োবার্তায় সৌরভ বলেন, 'আমাদের কাজ সরকারের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করা। এই সরকার স্বৈরাচারীদের মতো আচরণ করছে। যাঁরাই সরকারের সমালোচনা করছে, তাঁদের সমাজমাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। মামলা দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদে নরম পিআর ভাষণ নিয়ে কথা বলার কোনও জায়গা নেই। আমাদের মতো ছোটদলগুলি খুব কম সময় পায় সংসদে বলার জন্য। সেই সময়ের মধ্যে বড় জাতীয় সমস্যা নিয়েই কথা বলতে হবে। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে কথা বলার পরিসর নেই আমাদের।'
এসআইআর-পর্বে সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীরা যখন একজোট হচ্ছেন, তখন রাঘব আলাদা থেকেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সৌরভ। তিনি বলেন, 'মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রস্তাব এনেছে বিরোধীরা। কিন্তু আপনি (রাঘব) তাতে সই করেননি। যখনই প্রতিবাদে বিরোধীরা অধিবেশন কক্ষ ছাড়েন, আপনি তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন না। কক্ষেই বসে থাকেন।' প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের প্রতি রাঘবের সুর বরাবরই নরম বলেও অভিযোগ করেছেন সৌরভ। তিনি বলেন, 'আমি কখনও দেখিনি যে, আপনি সংসদে প্রধানমন্ত্রী বা বিজেপি সরকারকে সরাসরি প্রশ্ন করছেন।'
একই কথা বলেছেন আপের জাতীয় মুখপাত্র অনুরাগ ধন্দা। রাঘবকে বিঁধে তিনি বলেন, 'আমরা কেজরিওয়ালের সেনা। কাউকে ভয় না পাওয়াই আমাদের প্রথম পরিচয়। সংসদে আমাদের দল খুব কম সময় পায়। তার মধ্যে দেশ বাঁচানোর কথা বলব, নাকি বিমানবন্দরে শিঙাড়ার দাম কমানোর দাবি জানাব?'
রাঘবকে রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরানো নিয়ে আপকে বিঁধেছে বিজেপি। দিল্লি বিজেপির সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব বলেন, 'কাকে দলনেতা করা হবে, তা সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু যে ভাবে রাঘব চাড্ডাকে সরানো হলো, তা ভীষণই আপত্তিকর। অরবিন্দ কেজরিওয়াল একজন কাপুরুষ। উনি বিরোধিতা সহ্য করতে পারেন না। তা সে বাইরেই হোক বা দলের অন্দরে।' প্রসঙ্গত, রাঘব বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে গত কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল জাতীয় রাজনীতিতে। সেই আবহেই এই কোন্দল। যদিও এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছেন না আপ নেতারা। রাজ্যসভার নতুন ডেপুটি দলনেতা হিসাবে যাঁকে নিয়োগ করেছে আপ, সেই অশোক মিত্তল বলেন, 'আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না এখনও।' তবে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের মন্তব্য ইঙ্গিতপূর্ণ। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, 'রাঘব চাড্ডা কি (বিজেপির সঙ্গে) আপস করে ফেলেছেন?' জবাবে মান শুধু বলেন, 'হ্যাঁ।'
আপ সূত্রের খবর, দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে অনেক দিন আগেই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল রাঘবের। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দিল্লিতে আবগারি মামলায় কেজরিওয়াল এবং উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার গ্রেপ্তারি নিয়ে সংসদে সেই ভাবে সরব হননি তিনি। শুধু তা-ই নয়, দলীয় প্রতিবাদ-কর্মসূচিতেও তাঁকে সেই ভাবে দেখা যায়নি। তা নিয়ে বার বার বিরোধীদের কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছে আপকে। সম্প্রতিই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন কেজরি এবং মণীশ। ঘটনাচক্রে, তার পরেই রাঘবকে রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিলো আপ।