• DM অফিস থেকে হেঁটে দু’পা, পাশেই SP অফিস, সেখানেই শৌচালয়ে আড়াই ঘণ্টা ‘বন্দি’ পড়ুয়া
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • জেলা প্রশাসনিক ভবনের ঠিক পাশেই এক সুলভ শৌচালয়ে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা তালাবন্দি হয়ে রইলেন এক কলেজ ছাত্র। শেষ পর্যন্ত এক পথচারীর তৎপরতায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। শুক্রবার সকালে ঘটনায় হইচই পড়ে যায় নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।

    নির্বাচনী আবহে বর্তমানে কৃষ্ণনগর জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে সাজ সাজ রব। মনোনয়ন পর্ব চলায় এলাকায় পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারে ঠাসা। তার মধ্যেই ভাতজাংলা থেকে কৃষ্ণনগর আইটিআই কলেজে পড়তে আসা ছাত্র তমোজিৎ চক্রবর্তী যে পরিস্থিতির শিকার হলেন, তাকে ‘অমানবিক’ বললেও কম বলা হয়। শুক্রবার সকালে কলেজ ও টিউশন সেরে ফেরার পথে ওই শৌচালয়ে ঢুকেছিলেন তমোজিৎ।

    ওই ছাত্রের দাবি, সেখানে তখন কোনও কর্মী ছিলেন না। মিনিট সাতেক পর বেরোতে গিয়ে তিনি দেখেন, বাইরের প্রধান গেটে ঝুলছে বড় তালা। শুরু হয় এক রুদ্ধশ্বাস বন্দি দশা। মোবাইলে রিচার্জ না থাকায় কাউকে ফোন করতে পারেননি তমোজিৎ। ভ্যাপসা গরমে শৌচালয়ের ঘুপচি ঘরে হাঁসফাঁস করতে করতে গেট ধরে চিৎকার শুরু করেন তিনি।

    প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে আমঘাটার বাসিন্দা সঞ্জিত ঘোষ নামে এক বাইক আরোহী ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে গোঙানি শুনতে পান। তিনি কাছে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই ছাত্র। এর পরেও প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় শৌচালয়ের কর্মীর বাড়ি থেকে চাবি জোগাড় করে উদ্ধার করা হয় তমোজিৎকে।

    সঞ্জিত বলেন, ‘ছেলেটির যে অবস্থা দেখলাম, আর কিছুক্ষণ থাকলে ও অসুস্থ হয়ে পড়ত। প্রকাশ্য রাস্তায় পুলিশ-প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অমানবিক কাণ্ড কী করে ঘটে, ভেবে অবাক হচ্ছি।’ শৌচালয় থেকে বেরিয়ে আসার দীর্ঘক্ষণ পরেও তমোজিতের চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবহুল জায়গায় সরকারি শৌচালয় রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে যে চরম গাফিলতি রয়েছে, এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। যেখানে কড়া নিরাপত্তার দাবি করা হচ্ছে, সেখানে আড়াই ঘণ্টা এক ছাত্রের চিৎকার কেন কারও কানে গেল না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন শহরবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)