যে সব নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, অবিলম্বে তাঁদের পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করতে হবে। সর্বস্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্য প্রশাসনকে এই নির্দেশ দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যে কার্যকর করতে হবে। শনিবার দুপুর ১২টা মধ্যে তার বিস্তারিত রিপোর্টও জমা দিতে হবে কমিশনের কাছে।
মালদহের মোথাবাড়ি কাণ্ড নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার পরেই প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসে কমিশন। সেই বৈঠকে প্রাথমিক ভাবে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিল তারা। এর পর শুক্রবার লিখিত নির্দেশ যায় আধিকারিকদের কাছে। কমিশনের বক্তব্য, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বহু নাগরিকই বর্তমানে জামিনে মুক্ত। কেউ কেউ প্যারোলে বাইরে আছেন। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে পুলিশি নিরাপত্তা পান। কিন্তু তাঁদের সেই অর্থে জীবনের কোনও ঝুঁকি নেই। কারও কারও অপরাধের পুরোনো রেকর্ডও রয়েছে। তাঁদের পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করতে হবে।
কমিশন সূত্রে খবর, ভাঙড়ের ছোট বড় অনেক নেতা পুলিশি নিরাপত্তা পান। তাঁদের মধ্যে অনেকেই জেল খেটেছেন ও তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। তাঁদের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার হবে। শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আহসান মোল্লার নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও), রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), কলকাতার পুলিশ কমিশনার, সমস্ত জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠক করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালাও। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রশাসনের সকল আধিকারিককেই কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। কর্তব্যে গাফিলতির ঘটনা ঘটলে চাকরি নিয়ে টানাটানা হতে পারে বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ভোট ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব আপাতত কমিশনের হাতেই। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মোথাবাড়ির ঘটনায় কার্যত কমিশনেরই মুখ পুড়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করতে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত নাগরিকদের পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ কমিশন দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।