ভোটের আঁচে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা পড়ল মধ্য কলকাতার জনপ্রিয় মিলেনিয়াম পার্কে (Millennium Park)। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল পার্ক লাগোয়া পাশের শিপিং জেটিও। মিলেনিয়াম পার্কের বিপরীতেই রয়েছে রাজ্যের CEO দপ্তর। আসন্ন নির্বাচনে ক্রমশই তুঙ্গে উঠছে রাজনৈতিক পারদ। গত কয়েকদিন যে ভাবে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের বাইরে, সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই সাবধানতা অবলম্বনে পার্কের মতো জমায়েতের জায়গা বন্ধের সিদ্ধান্ত।
CEO অফিসে অশান্তির জেরে স্ট্র্যান্ড রোড-সহ একাধিক জায়গায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পুরোনো ১৪৪ ধারা) প্রয়োগ করা হয়েছে। বন্ধ করে রাখা হয়েছে স্ট্র্যান্ড রোডের একাংশ। এ বার নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার দুপুরে বন্ধ করে দেওয়া হলো গঙ্গার ধারের এই জনপ্রিয় পার্ক। পার্কের ভিতরে যাঁরা ছিলেন সকলকে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় পার্কের গেট।
নিরাপত্তার স্বার্থে পার্ক সংলগ্ন শিপিং জেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয় এ দিন। এর ফলে সমস্যায় পড়তে পারেন ফেয়ারলি প্লেস লাগোয়া অফিসের কর্মীদের একাংশ। বহু মানুষ শিপিংয়ের জেটি থেকে লঞ্চ ধরে সহজে গঙ্গা পারাপার করেন। কেউ ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে হাওড়া থেকে জলদি ট্রেন ধরতেও এখান থেকেই লঞ্চ ধরেন। ফলে এই ফেরিঘাট বন্ধ থাকলে অসুবিধায় পড়বেন বহু মানুষ। তবে কবে ফের খুলবে মিলেনিয়াম পার্ক এবং এই জেটি তা এখনও জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, SIR পর্ব থেকে নির্বাচনের ঘোষণা, কখনও বিক্ষুদ্ধ BLO-দের বিক্ষোভ, আবার কখনও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান বিক্ষোভের সাক্ষী হয়েছে রাজ্যের CEO দপ্তর। নির্বাচনী আবহে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসের বাইরে আরও বাড়ছে ঝামেলার সম্ভাবনা। গত ৩১ মার্চ, স্ট্র্যান্ড রোডের সামনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে তুমুল গন্ডগোল হয়। দুই দলের সংঘর্ষে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই ঘটনার পরেই বাড়তি সতর্কতা। যে কোনও ধরনের জমায়েত এড়াতে মিলেনিয়াম পার্ক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বলে অনুমান। ইতিমধ্যেই সিইও অফিসে অশান্তির জেরে স্ট্র্যান্ড রোড-সহ একাধিক জায়গায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পুরোনো ১৪৪ ধারা) প্রয়োগ করে যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে।