• ‘বাসে করে লোক নিয়ে আসা হচ্ছে...’, মালদার ঘটনায় ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব, মূল অভিযুক্তের গ্রেপ্তারিতে CID-কে বাহবা মমতার
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার কালিয়াচক কাণ্ডের পিছনে বড় চক্রান্তের অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে দায়ী করার পাশাপাশি তুলেছিলেন বহিরাগত তত্ত্বও। শুক্রবার কালিয়াচক কাণ্ডে মূল অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির পরে আবারও ঠিক প্রমাণিত হলো তৃণমূল নেত্রীর মন্তব্য। এ দিন সকালে কালিয়াচকে অশান্তির ঘটনায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে CID। হরিরামপুরের হাজারিপাড়া মাঠের জনসভায় সেই ঘটনার উল্লেখ করে সিআইডি-কে বাহবা দেন তিনি। মমতার কথায়, পরিকল্পিত ভাবে 'সংখ্যালঘুদের খেপিয়ে' বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাইরে থেকে বাসে করে লোক আনা হচ্ছে। প্রশাসনে ইচ্ছাকৃত ভাবে রদবদল ঘটিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ মমতার।

    শুক্রবার হাজারিপাড়ার জনসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘মালদার ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তাকে হাতেনাতে কে গ্রেপ্তার করেছে জানেন? এই রাজ্যের CID, স্থানীয় পুলিশ নয়। NIA আসার আগেই, আমাদের সিআইডি, যেটা এখনও আমি দেখি, তারা গ্রেপ্তার করেছে। সেই CID কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অধীনে পড়ে না, সেই সিআইডি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।’ এ প্রসঙ্গে হায়দরাবাদের দল মিমকেও কটাক্ষ করেন তিনি। মমতার কথায়, ‘অভিযুক্ত বাগডোগরা দিয়ে পালাচ্ছিল। মুম্বই থেকে বিজেপি ধার করে ওই মিমকে নিয়ে এসেছে। আইএসএফ ওদের সাথে। কংগ্রেসেরও উস্কানি আছে। আর বিজেপিরও উস্কানি আছে। বিজেপির কথায়, ওদের টাকায় অশান্তি ছড়ানোর ছক কষা হয়েছিল। NIA আসার আগেই বাগডোগরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

    এখানেই শেষ নয়, ISF-এর সঙ্গেও বিজেপি যুক্ত বলে অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মালদার ঘটনার পিছনে বিজেপি ও কংগ্রেসেরও উস্কানি রয়েছে বলে বৃহস্পতিবারই সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ,‘বিহারের ভোটেও ঠিক একই ভাবে মিম-এর মতো দল ভোট কেটে বিজেপিকে জিততে সাহায্য করেছিল।’

    এ দিন জেলাবাসীকে সতর্ক করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন,‘বাংলার বদনাম করা। সংখ্যালঘুদের ক্ষেপিয়ে দিয়ে অশান্তি করার চেষ্টা করছে। চক্রান্ত করে সব অফিসারদের ট্রান্সফার করছে। অন্যান্য রাজ্যে ১০-১১ জনকে বদলি করেছে। আর বাংলায় চারশোর উপর রদবদল হয়েছে। বাসে করে গুজরাট থেকে লোক আনছে। এ দিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরতে টিকিট দিচ্ছে না।’

    বিজেপি আসন পুনর্বিন্যাস করে বাংলা ভাগের চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিহার আর বাংলার কয়েকটা এলাকাকে নিয়ে আলাদা রাজ্য করার পরিকল্পনা করেছে। তবে তার আগেই ওরা হারবে। ২০২৬-এই হারাব।’ বিজেপি ভোটের দিনও গন্ডগোল পাকাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নেত্রী। মা-বোনেদের ঝাঁটা হাতে পাহারা দেওয়ার পরামর্শ মমতার। তিনি বলেন,‘লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী চান? তা হলে মা-বোনেরা, ভাইয়েরা এলাকায় নজর রাখুন।’

    এদিনের সভা থেকে উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষমতায় এলে প্রত্যেকের জন্য পাকা বাড়ি ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সতর্ক করে নেত্রীর দাবি, তৃণমূল ক্ষমতায় না এলে সাধারণ মানুষের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও সচেতনতার বার্তা দেন তিনি। সাধারণ মানুষকে অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা ফোন নম্বর শেয়ার না করার পরামর্শ দেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)