আলুর রেকর্ড ফলন হয়েছে এ বার। চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষিদের কপালে। হুগলির সিঙ্গুর, হরিপাল, জাঙ্গিপাড়া, খানাকুল, পুড়শুড়া এলাকায় মাঠেই আলু পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একদিকে, অধিক ফলনে দাম কমে যাওয়া, অন্য দিকে ভিন রাজ্যে আলু রপ্তানি একাবারে কমে যাওয়ায় প্রবল সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা, এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। শুক্রবার খানাকুলে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সেই অভিযোগের জবাব দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আলু চাষ নিয়ে ‘ভুল প্রচার হচ্ছে’ বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ।
এ দিনের খানাকুল লাইব্রেরি ফুটবল মাঠের জনসভা থেকে অভিষেক বলেন, ‘এখানে প্রচার করা হচ্ছে আলু চাষিরা নাকি দাম পাচ্ছেন না। কারণ পার্শ্ববর্তী রাজ্যে আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার নাকি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আমি প্রথমেই বলি, গত ২৫ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে মাত্র তিনদিনে তারকেশ্বর ও পুড়শুড়া স্টেশন থেকে চারটি রেকে প্রায় এক লক্ষ ৬৮ হাজার আলু লোড করে ত্রিপুরা ও অসমে পাঠানো হয়েছে। আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই।
অভিষেক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অনুকূল আবহাওয়ায় এই বছর আলুর অধিক ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত বিঘা পিছু ৬৫-৭০ বস্তা আলু হয়, এ বার ১০০-১২০ বস্তা হয়েছে। গত বছর রাজ্যে আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন। আমার ধারণা, এই বছর সেই সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে।’ আলু চাষিদের পাশে রয়েছে রাজ্য সরকার, উল্টে সার ও আলু বস্তার নাইলনের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার বলে অভিযোগ করেন অভিষেক।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে হুগলির আরামবাগ, খানাকুল, পুড়শুড়া এলাকায় জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থীরা। এখানে জেতার পরেও বিজেপি বিধায়করা কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেননি বলে দাবি করেন অভিষেক। এ বারের নির্বাচনে পরাজিত আসনগুলি তৃণমূল নিজেদের অধীনে আনতে সক্ষম হবে বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ।