একসময়ে তাঁকে বলা হতো আম আদমি পার্টি (AAP)-র ‘পোস্টার বয়’। তবে গত কয়েকদিনে দলীয় নেতৃত্ব আর রাঘব চাড্ডার মধ্যে ফাটল চলে এসেছে একেবারে প্রকাশ্যে। রাঘবকে রাজ্যসভায় ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে আপ। দলের তরফ থেকে রাজ্যসভা সেক্রেটারিয়েটকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে, AAP-এর কোটায় রাঘব চাড্ডাকে যেন আর বলার সময় (speaking time) দেওয়া না হয়।
শুক্রবার তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় নেতৃত্বের আক্রমণের সুর আরও চড়া হয়েছে। রাজ্যসভায় বিমানবন্দরে সিঙাড়ার দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে দলীয় নেতৃত্ব কটাক্ষও করেছে তাঁকে। আপের এক সময়ের ‘পোস্টার বয়’-এর এই পরিণতিতে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন উঠছে, পর্দার আড়ালে কী এমন ঘটল যে, আপ দলের অন্দরে দুয়োরানি হয়ে গেলেন রাঘব চাড্ডা?
শুক্রবার, দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অতিশী এবং সৌরভ ভরদ্বাজের অভিযোগ, রাঘব নাকি BJP-কে ভয় পাচ্ছেন। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। আবার শাসক দলের সঙ্গে রাঘব আপস করে নিয়েছেন, এমন ইঙ্গিতও জোরালো ভাবে দেওয়া হচ্ছে আপ দলের পক্ষ থেকে।
আপ-এর অন্দরমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাসে সংসদে বাজেট অধিবেশন চলাকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা বিরোধী দলগুলির ইমপিচমেন্ট মোশনে সই করতে অস্বীকার করেছিলেন রাঘব। অতিশীর স্পষ্ট অভিযোগ, ‘পশ্চিমবঙ্গে ভোট চুরি হচ্ছে, আর আপনি চুপ! প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে ভয় পাচ্ছেন কেন?’
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাঘবের সঙ্গে দলের দূরত্বের সূত্রপাত আজ থেকে অন্তত বছর চারেক আগে। ২০২২ সালে বিপুল ভোটে জিতে পাঞ্জাবে ক্ষমতায় এসেছিল আপ।
মুখ্যমন্ত্রী হন ভগবন্ত সিং মান। কিন্তু রাঘবের অনুগামীরা তাঁকেই পাঞ্জাবের ‘সুপার সিএম’ বলা শুরু করে। এই নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। ভগবন্ত সিং মানের সঙ্গে তাঁর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটাই রাঘবের সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের দূরত্বের মূল কারণ।
এ ছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বর্তমানে দেশে LPG সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। আপ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সঙ্কটের বিষয়ে সংসদে রাঘবকে সরব হতে নির্দেশ দিয়েছিল দলীয় নেতৃত্ব। কিন্তু রাঘব সেই নির্দেশ মানেননি।
একসময়ে দলের হয়ে যে কোনও ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সরব হতেন রাঘবই। কিন্তু LPG সঙ্কট থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গে ভোট চুরির মতো ইস্যুতে দলের নির্দেশ সত্ত্বেও সংসদে চুপ থেকেছেন তিনি। এই জায়গা থেকেই চাপ বা রাজনৈতিক স্বার্থে BJP-র সঙ্গে গোপনে ‘আপস’ করার প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।
রাঘব চাড্ডার দাবি, তাঁর মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। তাঁকে দলের রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরে, এ দিন সোশ্যাল তিনি তাঁর রাজ্যসভার বিভিন্ন ভাষণের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছেন। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের মুখে আপ-এর অন্দরের এই মহাসংঘাত জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে।