সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম না দেখে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা। সেই বিক্ষোভের আঁচ এসে পড়ল হুগলির খানাকুলে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতেও। শুক্রবার সভা শেষ করে মঞ্চ ছাড়ার সময়ে বেশ কিছু ভোটাররা বিষয়টি নিয়ে অভিষেককে অভিযোগ জানান। অভিষেক তাঁদের আশ্বাস দেন, ‘সবাই এ দেশের নাগরিক। আগে যে ভাবে ভোট দিয়েছিলেন, এ বারও সে ভাবে দেবেন।’
হুগলির জেলার চুঁচুড়া, পুরশুড়া, আরামবাগ, খানাকুল-সহ বিভিন্ন এলাকায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যায় প্রচুর ভোটারের নাম বাদ যায়। চুঁচুড়া স্টেডিয়ামে আয়োজিত ট্রাইব্যুনালে লম্বা লাইন দেখা যায়। ‘ডিলিটেড ভোটার’দের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস দলের তরফে সবরকম সাহায্য করা হবে বলে জানা অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোনও চিন্তা করবেন না। ট্রাইব্যুনালে আপিলের কাজ চলছে। আমার দপ্তর থেকে প্রত্যেকটা পঞ্চায়েতের দায়িত্বে একজন করে পঞ্চায়েত ইলেক্টোরাল সুপারভাইজ়ার আছে। প্রত্যেকটা ব্লকে ব্লক সুপারভাইজ়ার আছে। প্রত্যেকের হয়ে আমরা আপিল করব।’
SIR সংক্রান্ত মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘৬ তারিখ সুপ্রিম কোর্টে মামলা আছে। কারও নাম গায়ের জোরে কাটা হলে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করবে।’
SIR-এ মানুষের হয়রানির জন্যে এ দিনের সভায় বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করেন অভিষেক। জনসভায় তাঁর বক্তব্য, ‘যদি কেউ জোর জবরদস্তি নাম কাটে, আমি অনুরোধ করব বিজেপির কোনও নেতা যদি প্রচার করতে আসে তাঁদেরকে শান্তিপূর্ণ ভাবে একটু ভালো করে অতিথি আপ্যায়ন করে দেবেন।’
ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার জন্যে বুধবার রাতে অশান্তি হয় মালদার মোথাবাড়ি এলাকায়। সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে NIA। গোটা বিষয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করে এক্স হ্যান্ডলে একটি বার্তায় অভিষেক লিখেছেন, ‘বিজেপি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অপব্যবহার করে আমাদের জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। সিপিএম ও কংগ্রেসের—ভোট ভাগ করে বাংলা-বিরোধী শক্তিগুলোর হাতে নির্বাচনী সুবিধা তুলে দিচ্ছে। আবার কখনও আইএসএফ ও এআইএমআইএম—নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে অশান্তি উস্কে দিয়ে বাংলাকে অশান্ত করে তুলছে।’