আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি কান্ডের তদন্তে মোথাবাড়িতে পৌঁছল এনআইএ টিম। শুক্রবার বিকালে টিমের তদন্তকারী অফিসাররা প্রথমে মোথাবাড়ি থানায় পৌছান। এরপর থানা থেকে মোথাবাড়ি বিড়িও অফিসে যান বলে খবর। উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মালদার মোথাবাড়িতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা প্রথমে দিনভর মোথাবাড়িতে পথ অবরোধ করেন। এরপর অনেক রাত পর্যন্ত মোথাবাড়িতে অবস্থিত কালিয়াচক-২নং বিডিও অফিস ঘেরাও করে রাখেন। সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রেখে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। যদিও গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে কোনওমতে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সিবিআই বা এনআইএ তদন্ত করার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেয়। আর তদন্তভার নিয়েই শুক্রবার বিকালে মালদার মোথাবাড়িতে পৌঁছান জাতীয় তদন্তকারী দলের অফিসাররা।
প্রসঙ্গত, মোথাবাড়ি ও কালিয়াচক থানা দু'টি মিলিয়ে মোট ১৯টি মামলা রুজু করা হয়েছে এই ঘটনায়। যার মধ্যে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনআইএ প্রথম এই দু'টি থানায় যাবে। তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে কেস সম্পর্কিত যাবতীয় নথি নেবেন বলে জানা যাচ্ছে। ৬ এপ্রিলের মধ্যে সুম্পিম কোর্টে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে তারা।
মোথাবাড়িতে অশান্তির ঘটনায় পুলিশের জালে মূল প্ররোচনাকারী আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম। প্রথমে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে পাকড়াও করে সিআইডি।পরে এডিজি উত্তরবঙ্গ তাঁকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার মোফাক্কারুলের এক সহযোগী এক্রামুল বাগানি। মোথাবাড়িকাণ্ডে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে মোফাক্কারুলের ভিডিও। কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসে অশান্তির সময় গাড়ির মাথায় উঠে বক্তৃতা দিতে দেখা গেছে মোফাক্কারুলকে। পু
লিশের দাবি, মোফাক্কারুলই ঘটনার মূল প্ররোচনাকারী। পুলিশ জানিয়েছে, কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসের সামনে উস্কানিমূলক ভাষণ দেন মোফাক্কারুল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাগডোগরা বিমানবন্দরে ধৃত সহযোগী এক্রামুলও। পুলিশ জানিয়েছে, ধরপাকড় শুরু হতেই ২ জনেই বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিলেন। আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানাতেই ৩টি মামলা রয়েছে।
মোথাবাড়িতে অশান্তির ঘটনায় এখনও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। বিক্ষোভের নামে চলে তাণ্ডব। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর-এর কাজ করছিলেন এই জুডিশিয়াল অফিসাররা।