• নেত্রীর সভায় ডাক পাননি, ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রুবিয়া
    আজকাল | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সুতির ছাবঘাটি ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জনসভায় অনুপস্থিত ছিলেন তৃণমূল পরিচালিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা। যদিও সুতি বিধানসভা এলাকা থেকেই নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্যা রুবিয়া সুলতানার সেখানে না থাকা নিয়ে জেলার রাজনীতিতে এখন চলছে জোর চর্চা, বিভিন্ন মহলে উঠছে নানা প্রশ্ন।

    শুক্রবার দুপুর নাগাদ সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রুবিয়া সুলতানা নিজেই জানালেন তাঁর অনুপস্থিতির কারণ। তিনি বলেন, “সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার মঞ্চে আমার নাম রাখেননি। এর আগের জনসভাতেও তিনি আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু আমি জনগণের স্বার্থে সবটা সহ্য করেছি। বিষয়টি আমি জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানকেও জানিয়েছি। তিনিও বিধায়কের কাছে মঞ্চে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের তালিকা চেয়েছিলেন, কিন্তু বিধায়ক তা দেননি। খলিলুর রহমান মঞ্চে গিয়ে জানতে পেরেছিলেন মঞ্চ এবং প্রবেশ পথে আমার নাম তালিকায় রাখা হয়নি।”

    শুক্রবার দুপুর নাগাদ রুবিয়া নিজের সমাজমাধ্যমের ভেরিফাইড পাতায় প্রায় ৫ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন (যার সত্যতা আজকাল ডট ইন যাচাই করেনি)। সেই ভিডিওতেই সভাধিপতি একাধিক অভিযোগ করেছেন সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা এবারের নির্বাচনে ওই কেন্দ্রের প্রার্থী ইমানি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, রুবিয়া সম্পর্কে ইমানি বিশ্বাসের ভ্রাতৃবধূ হন। 

    সমাজমাধ্যমের পাতায় ভিডিওটি পোস্ট করে রুবিয়া জানিয়েছেন, গতকাল মমতা ব্যানার্জির সভায় তাঁর অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে সাংবাদিক থেকে শুরু করে অনেকেই ফোন করেছেন। তাই সকলের প্রশ্নের উত্তর দিতেই তিনি এই ভিডিও করছেন। ভিডিওটিতে রুবিয়া বলেন, “আমি জানতে চাই বিদায়ী বিধায়কের এত জ্বালা কীসের? তিনি চাইলেই গত পাঁচ বছরে সুতিতে অনেক উন্নয়নের কাজ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছু দেখেন না। আমরা দল করি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জিকে দেখে। তরুণ প্রজন্মের কাছে অভিষেক ব্যানার্জি একটা আবেগ ও অহংকার।”

    বিধায়কের দুর্ব্যবহার প্রসঙ্গ টেনে রুবিয়া প্রশ্ন তোলেন, “বিধায়ক গতকাল যা করেছেন, এই নোংরামি কি চিরকাল সহ্য করে যেতে হবে? আমরা জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করি। তাই ব্যক্তিগতভাবে কাউকে পছন্দ না হলেও জনগণের স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে চলা উচিত। উনি ২০১৮ সাল থেকে যে ব্যবহার করেছেন তা এত দিন সহ্য করতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু আজ আমি বলতে বাধ্য হলাম।”

    মুর্শিদাবাদের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “অহংকার কখনও চিরস্থায়ী হয় না। রুবিয়া সুলতানা চিরকাল সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে এসেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। যেভাবে আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আগামীদিনেও আপনারা আমাকে রাস্তায় পাবেন। সাধারণ মানুষ যেন কোনওভাবে দ্বিধাগ্রস্ত না হন। তাই আমি সকলের প্রশ্নের উত্তর দিতে এই বার্তা দিতে এসেছি।”

    যদিও রুবিয়ার তোলা অভিযোগকে কোনও গুরুত্ব দিতেই নারাজ বিদায়ী বিধায়ক ইমানি। রুবিয়ার নাম শুনে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কোন রুবিয়া? ওঁর সঙ্গে আমার ভাইয়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে।”

    তারপর ইমানি বলেন, “ওঁকে এখানকার মানুষ ভালোবেসে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৩ বছরে এখানকার মানুষের জন্য কোনও কাজ করেননি। এখানকার কোনও মানুষের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন কি না সেটা সকলেই জানেন। গতকাল যা হয়েছে ঠিক হয়েছে।”

    একটি বিখ্যাত হিন্দি প্রবাদ উদ্ধৃত করে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আমি সামনে চলতেই থাকবো, কে পিছনে চিৎকার করল আমার দেখার দরকার নেই।”
  • Link to this news (আজকাল)