প্রচারে বেরিয়ে কখনও দাড়ি কেটে দিচ্ছেন প্রার্থী, কখনও হাতে হাতে রান্না করছেন, কখনও আবার রুটি বেলে দিতে দেখা যাচ্ছে। পাণ্ডুয়ার বিজেপি প্রার্থী তুষার মজুমদারকে দেখা গেল বালি-সিমেন্ট মেখে রাজমিস্ত্রিকে সাহায্য করতে। কেন বালি-সিমেন্ট মাখলেন তিনি? এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতেই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর উত্তর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক।
‘আমি কোনওদিন শিল-নোড়া দিয়ে বাটনা বাটতে যাব না, কারণ ওটা মেয়েদের কাজ। এটা পুরুষের কাজ। আমি নাটক করি না, আমি যেটা পারি সেটাই করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুবই সাধারণ ঘরে বড় হয়েছি। শুধু রাজমিস্ত্রির জোগাড় কেন, প্রয়োজনে ধান কাটতেও পারবো।’ বিরোধীদের কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ‘আমার বাড়িতে এসি নেই। ওদের মতো আমি এসি ঘরে বসে থাকি না। একটুখানি হাঁটলে আমার পায়ে ব্যথা হয়ে যায় না। নির্বাচনে যদি জিতি এলাকার মানুষ দেখতে পাবে আমি কি পারি।’
পাণ্ডুয়ার সিপিআইএম প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, বিজেপির রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক-উচ্চ বর্ণ ও নিম্ন বর্ণের বিভাজন রন্ধ্রে রন্ধ্রে। পুরুষ-নারী বিভাজনও করে তারা। বিজেপি প্রার্থী এ কথা বলবেন এটাই তো স্বাভাবিক। নারীবিদ্বেষী দল, নারীবিদ্বেষী প্রার্থী।’
শ্রীরামপুর হুগলি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের যুব সভা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী বলেন, ‘বিজেপি বলেই আপনারা মেয়েদের রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ রাখতে চান। মেয়েরা আজ রান্নাঘরে আটকে নেই। তাঁরা দেশের জন্য লড়াই করছেন। মেয়েদের এ ভাবে দিনের পর দিন ছোট করছেন। বাংলার মায়েরা ভোটবাক্সে জবাব দেবেন।’
এ দিন পান্ডুয়ার শিখিরা চাঁপ্তা পঞ্চায়েত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যান বিজেপি প্রার্থী তুষার মজুমদার। সেখানেই তাঁকে সিমেন্ট-বালি মেখে শ্রমিকের মাথায় তুলে দিতে দেখা যায়। এ দিন আবিরা, বেলে, শিখিরা সহ ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে প্রচার করেন বিজেপি প্রার্থী।