• পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে অভিনব বার্তা ‘গোলাপ সুন্দরী’-র
    এই সময় | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন ‘গোলাপ সুন্দরী’। তাঁর হাতে একটা পোস্টার। তাতেই দেওয়া হয়েছে গণতন্ত্রের উৎসবে যোগ দেওয়ার বার্তা। সকলেই যেন নির্ভয়ে নিজের ভোট তাঁর পছন্দের প্রার্থীকেই দেন সেই কথাই বলা হয়েছে তাতে। তবে এটা কোনও সরকারি পোস্টার নয়। যিনি এই পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি যদিও তিনি এক জন সরকারি বেতনভুক কর্মী। কিন্তু গণতন্ত্রের উৎসবে কাউকে সচেতন করতে এই কাজ করতে কেউই তাঁকে উৎসাহিত করেননি। নিজের ইচ্ছেতেই এই কাজ করেন তিনি। আর, মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন বহুরূপী সেজে। এ বারেও একই কাজ করছেন দেবাশিস মুখোপাধ্যায়।

    হুগলির আরামবাগের (Arambag) বাসিন্দা দেবাশিস মুখোপাধ্যায় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক (School Teacher)। মাজপুর প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক তিনি। তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি বহুরূপী সাজাও তাঁর নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছুটির দিন পেলেই বহুরূপী সেজে যে কোনও সামাজিক বার্তা নিয়ে ছুটে যান গ্রাম থেকে শহরে। শুক্রবার ঘাটালে (Ghatal) হাজির হন সেই বহুরূপী।

    রাজ্য জুড়ে এখন বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Elections) পারদ চড়ছে। আর সেই ভোটের অবহেই নির্ভয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন তিনি।

    বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রত্যেক বার নতুন নতুন রূপ নেন দেবাশিস। এ বার তিনি সেজেছেন ‘গোলাপ সুন্দরী’।

    তাঁর হাতে রাখা পোস্টারে লেখা, ‘গণতন্ত্রের উৎসবে যোগ দিন। নিজের ভোট নিজে দিন। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। নির্ভয়ে ভালোবেসে ভোট দিন।’ ওই বার্তা দিয়ে নাচ ও গানের মাধ্যমে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। মজাদার এই দৃশ্য দেখতে প্রচুর ভিড়ও জমে ছিল।

    কেন এই কাজ? তার ব্যাখ্যা নিজেই দিয়েছেন দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, গত দশ বছর ধরে সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিতে বহুরূপী সাজছেন তিনি । এর আগে লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনেও একই রকম বার্তা নিয়ে তিনি গিয়েছিলেন বিভিন্ন এলাকায়। এ বার বিধানসভা নির্বাচনেও প্রচার শুরু করেছেন তিনি।

    ছুটির দিনগুলিতে বাড়িতে বসে না থেকে গাড়ি ভাড়া করে বহুরূপী সেজে বেরিয়ে পড়েন দেবাশিস । শুধু নির্বাচনের সময়ে নয়, আগেও বাল্যবিবাহ (Child marriage) রোধ, তামাকজাত দ্রব্য বর্জন, শিশুদের মোবাইল থেকে দূরে রাখা, গাছ লাগান প্রাণ বাঁচান প্রভৃতি বার্তা দিয়ে বহুরূপী সেজে প্রচার করেছেন তিনি। নিজের জেলা হুগলির (Hoogly) বিভিন্ন জায়গা তো বটেই পশ্চিম মেদিনীপুর (Midnapore) ,পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া পুরুলিয়া,বর্ধমান, জেলাতেও ঘুরে ঘুরে প্রচার করেছেন বলে তিনি। এর জন্য খরচও হয়। সেই খরচ তাঁর নিজের। এতে বাড়ির লোকের আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। বরং এক কাজে তাঁকে উৎসাহ দেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়েরাও বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)