এই সময়: মার্চের শুরু থেকেই ঘনিয়ে ওঠা ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখার দৌলতে বঙ্গোপসাগর থেকে দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকেছিল। দেশের উত্তর–পশ্চিমে সক্রিয় হয়ে ওঠা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সেই জলীয় বাষ্পকে কাজে লাগিয়ে মার্চে অন্তত সাত–আট দিন দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ঝড়–বৃষ্টি এনেছে। এর ফলে মার্চ জুড়েই কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গ মোটের উপরে অনেকটাই মনোরম আবহাওয়া পেয়েছিল। সেই সুখের দিন শেষ হলো এপ্রিল শুরু হতেই।
শুক্রবার দুপুরে মরশুমে প্রথমবার বাংলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর পার করল। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ দিন রাজ্যের মধ্যে উষ্ণতম স্থান ছিল পানাগড় (৪০.৪ ডিগ্রি)। এর পাশাপাশি এ দিন বাঁকুড়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস মিলিয়ে আর্দ্র গরমে বেসামাল কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের বড় এলাকা। তবে কষ্ট করে দু’দিন কাটালে ফের কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে—এমনটাই আশার বার্তা দিয়েছে হাওয়া অফিস। জানিয়েছে, রবি থেকে মঙ্গল পর্যন্ত তিন দিন বজ্রবিদ্যুৎ–সহ ঝড়–বৃষ্টির আবহ তৈরি হতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গে।
আবহবিদরা জানাচ্ছেন, পশ্চিম এবং উত্তর–পশ্চিম দিক থেকে এগিয়ে আসা শুকনো বাতাসের প্রবাহ বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ারের নীচের দিকের স্তর দিয়ে এই অঞ্চলে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। এই শুকনো ও উষ্ণ বাতাসের প্রবাহে আজ, শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আবহাওয়া উষ্ণ রাখবে। একই সঙ্গে অনুকূল বায়ুপ্রবাহের জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে যে ভাবে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকে চলেছে, তার প্রভাবে সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতাও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ৯০ শতাংশের কাছাকাছি জায়গায় রয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনও তাপমাত্রায় কোনও জায়গার বাতাসে সর্বোচ্চ যতটা জলীয় বাষ্প থাকতে পারে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ জলীয় বাষ্পই রয়েছে। এই কারণেই প্রবল ঘামের অস্বস্তিতে ভুগতে হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গবাসীকে।
এক দিকে উষ্ণ ও শুকনো বাতাস এবং অন্য দিকে জলীয় বাষ্পে পূর্ণ আর্দ্র বাতাস—বিপরীতধর্মী এবং বিপরীতমুখী দুই বাতাসের প্রবাহের জন্যই আগামিকাল, রবিবার থেকে থেকে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন আবহবিদরা। পূর্বাভাস রয়েছে, রবিবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টিপাত এবং ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইবে। অন্য দিকে সোমবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
তিন দিনের যে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে পরিস্থিতি সবচেয়ে প্রবল থাকবে ৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার। ওই দিন ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিমি পর্যন্ত গতিতে ঝোড়ো হাওয়ার কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। ওই দিন কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিমি গতিতে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।