এই সময়: জম্মু–কাশ্মীরে ‘জঙ্গি’ বলে দাগিয়ে সাধারণ মানুষকে মেরে দেওয়ার অভিযোগ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক বার উঠেছে। সম্প্রতি তেমনই একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিলেন জম্মু–কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। ১ এপ্রিল কাশ্মীরের গান্দেরবালের আরহামায় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে এনকাউন্টারে এক জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিল সেনা, তবে নিহতের পরিচয় প্রকাশ করেনি। পরদিন, বৃহস্পতিবার কাশ্মীরি এক পরিবার দাবি করে তাঁদের বাড়ির বড়ছেলে রশিদ আহমেদ মুঘলকে খুন করেছে সেনা, অথচ রশিদের কোনও জঙ্গি সংযোগ ছিল না! রশিদের ভাই আজাজ়ের দাবি, তাঁর দাদা এম.কম পাশ। খুব সামান্য টাকার বিনিময়ে কাশ্মীরের গ্রামবাসীদের ফর্ম ফিলআপ এবং অন্যান্য ডকুমেন্টেশনের কাজ করে দিতেন। গ্রামের দু’জন প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যও আজাজ়ের দাবিকেই মান্যতা দিয়েছেন।
এর পরই জম্মু–কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্র দপ্তর রশিদের খুনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের কথা জানায়। উপরাজ্যপাল সিনহা এই তদন্তের অর্ডার লোকভবনের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে লেখেন, ‘গান্দেরবালের আরহামার ঘটনায় আমি বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্তে সবদিক খতিয়ে দেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’ গান্দেরবালের জেলাশাসককে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। আজিজ়ের দাবি, ‘মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল রশিদ, কিন্তু সন্ধেবেলা ফেরেনি। সন্ধে ছ’টা নাগাদ ওকে ফোন করে সুইচড অফ পাই। দাদা পুরোনো একটা ফোন ব্যবহার করত, আমরা ভাবছিলাম ফোন হয়তো খারাপ হয়ে গিয়েছে। বুধবার সকালে স্টেশন হাউস অফিসার বাড়িতে এসে বলেন, দাদার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে, আমাকে যেতে হবে। উনি আমাকে শ্রীনগরের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে নিয়ে গিয়ে একটি দেহ শনাক্ত করতে বলেন। দেখি সেটা আমার দাদার!’ পুলিশ জানায়, রশিদ জঙ্গি ছিলেন, কিন্তু আজিজ় তা মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি দাদার বডি চেয়েছিলাম, ওরা দেয়নি। দাদার বডি নিয়ে হান্দওয়ারা যায়। সেখানে শুধুমাত্র আমার উপস্থিতিতে শেষকৃত্য হয়।’
এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন জম্মু–কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি–ও। গান্দেরবালের পুলিশ সুপার খলিল আহমেদ পোসওয়ালের বক্তব্য, ‘রশিদের অপরাধের ইতিহাস খতিয়ে দেখছি আমরা। ওর এক ভাই পাকিস্তানে রয়েছে। আর্মি অপারেশনে নিহত হয়েছে ওই যুবক। একটা একে–৫৬ রাইফেলও উদ্ধার হয়েছে।’ আজিজ়ের অবশ্য দাবি, তাঁর আরেক ভাই ইশফাক আহমেদ মিঘাল পাকিস্তানে নেই, তিনি ২০০০ সালেই মারা গিয়েছেন। তাঁর দেহ–ও সেনা দেয়নি বলে অভিযোগ আজিজ়ের। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্রের অবশ্য বক্তব্য, ‘পরিবার অনেক কিছুই দাবি করতে পারে। এটা স্পর্শকাতর বিষয়। সত্যিটা সামনে আসবেই।’