• মাছে-ভাতে চাপ নেই, আশ্বাস মিলছে প্রচারে
    এই সময় | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • সমীর মণ্ডল, মেদিনীপুর

    মাছে-ভাতে বাঙালি— এ প্রবাদ চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। ভোট–মরশুমে সেই প্রবাদের গায়েই লেগে গিয়েছে রাজনীতির রং। অনেক সময়ে নির্দল প্রার্থীর প্রতীক হিসেবেও উঠে এসেছে 'মাছ'। কিন্তু সেই জলজ প্রাণীকে নিয়ে যে ভোটের ময়দানে এমন তরজা জমে উঠবে, কে জানত!

    রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির থালা থেকে উধাও হয়ে যাবে মাছ, মাংস, এমনকী ডিমও! সম্প্রতি নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, 'বাংলার খাওয়া-পরা বন্ধ করার দল বিজেপি। কেউ যদি ওদের টাকা নিয়ে ভোট দেন, তবে ভবিষ্যতে আর মাছ-মাংস খেতে পারবেন না!' যা শুনে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন, তবে কি রবিবারের পাতে মাছ–মাংস–ডিমের শেষ হতে চলেছে?

    এই আবহেই মেদিনীপুর শহরের রাজাবাজারে দেখা গেল অন্য ছবি। প্রচারের মাঝেই সটান মাছের বাজারে ঢুকে পড়লেন মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা। ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকে একটা বড় মাছ তুলে নিয়ে তাঁর মন্তব্য, 'আমরা বাঙালি। মাছ খাওয়া আমাদের সংস্কৃতি। এটা কেউ বন্ধ করতে পারবে না।' তাঁর 'মাছ-রাজনীতি' এই মুহূর্তে প্রচারের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

    তৃণমূল প্রার্থীর এমন মন্তব্যে মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত বলছেন, 'এ সবই আসলে ভোটের গল্প। আমি নিজেও মাছ, মাংস, ডিম খাই। কোথাও বলা হয়নি, এগুলো বন্ধ করা হবে। তৃণমূল কোনও ইস্যু না পেয়ে ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে। এই মিথ্যে প্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য সাধারণ ভোটাররাও প্রস্তুত।'

    শঙ্কর যাই বলুন, মাছ নিয়ে প্রচারে সাড়া ফেলেছেন বিজেপি প্রার্থীরাও। সম্প্রতি বেশ বড় সাইজের কাতলা মাছ নিয়ে প্রচার করেন বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগীরা বলছেন, বিজেপি এলে না কি মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। আমরা বলছি, মাছ সঙ্গে নিয়েই চলব। প্রয়োজনে তৃণমূল প্রার্থীর কাছে মাছ পাঠিয়ে দেবো।'প্রচারেই শেষ নয়, ইতিমধ্যে 'মৎস্য পুজো'ও করেছেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারি। পুজো শেষে মাছ নিয়েই মনোনয়ন জমা দেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, 'মাছ বাঙালি সংস্কৃতিতে শুভ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই মাছ নিয়েই শুভ কাজ সারলাম।' মাছ নিয়ে দু'দলের কাণ্ডকারখানা দেখে ভোটারদের অনেকেই বলছেন, 'মাছ নিয়ে এত কথা হচ্ছে। ভোটের পরে মাছের দামটা একটু কমালে সত্যি সত্যিই মাছে–ভাতে থাকা যাবে!'

  • Link to this news (এই সময়)