• নেতার টানে ক্রাচ নিয়ে জনসভায় আশরাফরা
    এই সময় | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

    দিন কয়েক আগেই তিনি বাঘমুন্ডি বিধানসভা এলাকার জারগোর মাঠে সভা করছিলেন। সে দিন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় ভিড় দেখে হাসি ফুটেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। শুক্রবার একই ধরনের আবেগ দেখা গেল বাঘমুন্ডির পার্শ্ববর্তী জয়পুর বিধানসভা ক্ষেত্রেও। কোটশিলা বামনিয়া ময়দানে অভিষেকের সভায় দেখা গেল তেমনই ভিড়।

    তবে বাঘমুন্ডির তুলনায় জয়পুর বিধানসভার পার্থক্য রয়েছে। বাঘমুন্ডিতে গত বারের জয়ী জোড়াফুলের প্রার্থী সুশান্ত মাহাতো। জয়পুরে গত বার তৃণমূল সমর্থিত নির্দল প্রার্থীকে হারিয়ে জিতেছিল বিজেপি। এ বার বিজেপিকে হারানোর বার্তা নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে তৃণমূলের হয়ে নেমেছেন অর্জুন মাহাতো। তাঁর হয়েই এ দিন নির্বাচনী জনসভা করেন অভিষেক। নির্ধারিত সময়ের বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই মাঠে আসতে থাকেন মানুষ। অভিষেকের কথা শোনার জন্য এ দিন গড়জয়পুরের মুকুন্দপুর থেকে বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই বাড়ি থেকে বেরোন আশরাফ শা।

    বছর পাঁচেক আগে এক দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যায়। তখন থেকেই ভরসা ক্রাচ। হাঁটাচলা করতে প্রচণ্ড কষ্ট হলেও প্রিয় নেতার আসার খবর শুনে তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। দুপুরের চড়া রোদ উপেক্ষা করেই তিনি রওনা হন বামনিয়া ময়দানের উদ্দেশে। আশরাফের কথায় ফুটে ওঠে প্রত্যাশার সুর। এখন মাসে এক হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পান তিনি। বিশ্বাস করেন, এই মঞ্চ থেকেই উন্নয়নের নতুন দিশা মিলবে। আশরাফের মন্তব্য, 'অভিষেক যা বলেন, কাজেও তাই করে দেখান।'

    এ দিন অভিষেক বলেন, 'ডায়মন্ড হারবারকে যে ভাবে আগলে রেখেছি, জয়পুরে অর্জুন জিতলে সে ভাবেই জয়পুরকে আগলে রাখব।' এই মন্তব্যের পরেই হাততালিতে ফেটে পড়ে সভাস্থল। হাততালি দেন আড়শার চিতিডির বাউরি পরামানিকও। দু'টি লাঠি নিয়ে হাঁটাচলা করেন এই প্রৌঢ়। তিনিও এসেছিলেন সভায়। ফিরে যাওয়ার সময়ে বলেন, 'বিশ্বাস আছে এই তরুণ নেতার উপরে। তাই সামনে থেকে ওঁর কথা শুনতে এত কষ্ট করে এসেছিলাম। আমরা চাই উন্নয়ন। সেটা যেন হয়।'

  • Link to this news (এই সময়)