• ৩৬৫ দিনই থাকো! মমতার তোপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে, পাল্টা ‘শাহ–ফোবিয়া’ কটাক্ষ
    এই সময় | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: বিধানসভা ভোটের মুখে টানা ১৫ দিন বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উদ্দেশ্য, তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের স্নায়ুচাপ বাড়ানো। তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে স্বভাবতই খুশির হাওয়া বঙ্গের পদ্ম–ব্রিগেডে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য মনে করছেন, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় থাকলে আখেরে লাভ হবে তৃণমূলেরই। কারণ, বাংলার মানুষ যত বেশি শাহের মুখ দেখবেন, ততই তৃণমূলের ভোট কমবে। বিজেপির অবশ্য পাল্টা দাবি, ভোটের মুখে তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের মন থেকে ‘শাহ–ফোবিয়া’ দূর করতেই এ সব কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নপত্র জমার কর্মসূচিতে সামিল হতে বৃহস্পতিবার ঝটিতি সফরে কলকাতায় এসেছিলেন শাহ। মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার আগে হাজরা মোড়ের জনসভা থেকে তিনি বলেছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তাই ১৫ দিন বাংলায় থাকব। আপনাদের সবার সঙ্গে তখন কথা বলার অনেক সুযোগ হবে।’ শাহের এই পরিকল্পনার জবাব শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের নির্বাচনী সভা থেকে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। মমতার কটাক্ষ, বিজেপির এই ‘স্ট্র্যাটেজি’র ফলে তৃণমূ‍লেরই সুবিধা হবে।

    কিন্তু কী ভাবে?

    বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মমতা ওই সভায় বলেন, ‘শুনেছেন তো, ভয় দেখাতে বলছে ১৫ দিন বাংলায় থাকব।’ নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, ‘তুমি ৩৬৫ দিন বাংলায় থাকো। তোমার মুখ লোক যত দেখবে, তত ভোট কাটবে। কারণ, তোমার মুখে অত্যাচারের চিহ্ন, দাঙ্গার চিহ্ন।’ অর্থাৎ, ভোটের মুখে বাং‍লায় শাহের অতি–সক্রিয়তা বিজেপির বিরুদ্ধে যাবে বলেই তৃণমূলনেত্রীর ইঙ্গিত।

    মমতার ব্যাখ্যা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশও। তাঁদের যুক্তি, ২০২১–এর বিধানসভা ভোটের আগে সর্বশক্তি দিয়ে বাংলায় ঝাঁপিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। টানা ১৫ দিন বাংলায় না থাকলেও সে বার এ রাজ্যে রীতিমতো ডেলি প্যাসেঞ্জারি করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। পরবর্তীতে বিধানসভা ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করতে বসে বাংলার অনেক পদ্ম–নেতারই উপলব্ধি ছিল, ভিন রাজ্যের নেতাদের এই তৎপরতা বাংলার মানুষ ভালো ভাবে নেননি। ফলে শাহ যদি এ বার ভোটের মুখে টানা ১৫ দিন বাংলায় থাকেন, সেক্ষেত্রেও এ রাজ্যের ভোটারদের একই প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে বিশ্লেষণ অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের।

    বঙ্গ–বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, শাহ ১৫ দিন বাংলায় থাকলে যদি বিজেপির ভোট কমত, তা হলে মমতা চুপ করেই থাকতেন। শাহের ঘোষণার পরের দিনই তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ শাণাতেন না। সেই সম্ভাবনা নেই বলেই তৃণমূলনেত্রী এ ভাবে ‘রিঅ্যাক্ট’ করছেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘আসলে অমিত শাহ শুধু বিজেপির শীর্ষ নেতাই নন, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। ফলে তাঁর মতো নেতা বাংলায় থাকবেন শুনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ঘাবড়ে গিয়েছে। তাদের কার্যত মাথায় হাত পড়েছে। চিন্তায় পড়েছে অনুপ্রবেশকারী আর বাংলাদেশি রোহিঙ্গারাও। ভোটের মুখে তাদের মনোবল যাতে ভেঙে না যায়, তাই এ দিন এ সব কথা বলেছেন তৃণমূলনেত্রী।’ বঙ্গ–বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির সংযোজন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই অমিত শাহের। কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করার পরে গোটা দেশ ওঁকে সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)