• ‘পাঁচ তারিখের মধ্যে সিধে করে দেবো’, পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বাদ পড়া ভোটারদের বার্তা অভিষেকের
    এই সময় | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: প্রতিদিনই রাজ্যে ‘ডিলিটেড’ ভোটারের সংখ্যা বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোটারদের একটা বড় অংশের ক্ষোভ এবং উৎকণ্ঠাও। প্রশ্ন উঠছে, কী হবে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের ভবিষ্যৎ? সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় ঠাঁই না–পেলে তাঁরা কি এ বার ভোট দিতে পারবেন না?

    শুক্রবার হুগলির খানাকুলের নির্বাচনী সভা থেকে ‘না–ভোটার’ হয়ে যাওয়া মানুষগুলির পাশেই দাঁড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট বার্তা দিলেন, ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস।

    হুগলির জেলার চুঁচুড়া, পুরশুড়া, আরামবাগ, খানাকুল-সহ বিভিন্ন এলাকায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যায়, সেখানে প্রচুর ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। চুঁচুড়া স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ট্রাইব্যুনালে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইনও দেখা গিয়েছে। এ দিন তাই খানাকুলে ভোট প্রচারে গিয়ে অনিবার্য ভাবে ‘ডিলিটেড’ ভোটারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন অভিষেক। তাঁদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘কোনও চিন্তা করবেন না। ট্রাইব্যুনালে আপিলের কাজ চলছে। আমার দপ্তর থেকে প্রত্যেকটা পঞ্চায়েতের দায়িত্বে একজন করে পঞ্চায়েত ইলেক্টোরাল সুপারভাইজ়ার আছেন। প্রত্যেকটা ব্লকে ব্লক সুপারভাইজ়ার আছেন। প্রত্যেকের হয়ে আমরা আপিল করব।’ এ দিন দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাংলার লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম ‘ডিলিট’ হওয়া প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    একই সঙ্গে মমতা দাবি করেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন বলেই অনেক ভোটারের নাম ‘ডিলিট’ হওয়া থেকে বেঁচে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ভোটারদের নাম নির্মম ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি পাঁচ দিনের ধর্নায় বসেছিলাম। আমি সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলাম। আমি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, যে সব ভোটারের নাম অন্যায় ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পান। প্রথমে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে ৬০ লক্ষ ভোটারকে বিচারাধীন রাখা হয়েছিল।’ তাঁর আর্জি, ‘যাঁদের নাম অন্যায় ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন। আমরা ট্রাইব্যুনালে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবো। ১৩টি নথির পাশাপাশি দয়া করে অন্যান্য বৈধ নথিও সঙ্গে রাখুন। যাঁদের নাম অন্যায় ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে লড়াই করতে হবে। এটি আপনাদের সাংবিধানিক অধিকার।’

    বাংলার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক এ দিন খানাকুলের সভা থেকে বলেন, ‘৬ তারিখ সুপ্রিম কোর্টে মামলা আছে। কারও নাম গায়ের জোরে কাটা হলে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করবে।’ তবে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের নিয়ে অভিষেকের লড়াইয়ের বার্তার মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর প্রচেষ্টা খুঁজে পাচ্ছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘আমরাও তো বলছি, একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। কিন্তু তৃণমূল বৈধ, অবৈধ ফারাক করতে চাইছে না। তারা অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চাইছে। কারণ, ওরাই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক।’

    এ দিকে, তৃণমূল প্রথম থেকেই প্রচার চা‍লাচ্ছে, সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বিজেপি ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটছে। এ দিন সুর চড়িয়ে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। বিজেপি নেতারা প্রচারে এলে তাঁদের ঠিক ভাবে ‘আপ্যায়ন’ করার পরামর্শও তিনি দিয়েছেন খানাকুলের তৃণমূল কর্মীদের। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কথায়, ‘যে বিজেপি নেতারা জবরদস্তি নাম কাটছেন, ভোটার তালিকা থেকে তাঁরা প্রচারে এলে ভালো করে শান্তিপূর্ণ ভাবে অতিথি আপ্যায়ন করে দেবেন। তাঁদের একটু শরবত খাইয়ে দেবেন, জল খাইয়ে দেবেন, মিষ্টি খাইয়ে দেবেন।’ তাঁর হুঙ্কার, ‘যদি কেউ ভাবে শিশু আর মহিলাদের উপরে অত্যাচার করে জোর করে নাম কেটে যা ইচ্ছে তাই করবে, গণতান্ত্রিক ভাবে কী ভাবে তাদের জবাব দিতে হয় সেটা আমি জানি। ৪ তারিখের (মে) পর মিলিয়ে নেবেন। ২৪ ঘণ্টা লাগবে না। পাঁচ তারিখের মধ্যে সিধে করে দেবো।’

  • Link to this news (এই সময়)