সুদূর রাশিয়া থেকে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলার সৈকতে হাজির নতুন অতিথি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির পাতিবুনিয়া সমুদ্র সৈকতে সম্প্রতি দেখা মিলেছে ‘স্পুন-বিলড স্যান্ডপাইপার’ বা চামচ-ঠোঁট বাটান পাখির। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই খুদে পাখি রাশিয়ার চুকোটকা থেকে উড়ে এসেছে। গত বছরের ৬ জুলাই সেখান থেকে এই পাখির পায়ে বিশেষ ট্যাগ লাগিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এই পাখি এখন বাংলার উপকূলে বিশ্রাম নিচ্ছে।
চলতি বছরের ২৯ মার্চ বকখালির পাতিবুনিয়া সৈকতে প্রথম একটি চামচ-ঠোঁট বাটান পাখি দেখতে পান পাখিপ্রেমী সন্দীপ দাস। তবে তার পায়ে কোনও ট্যাগ ছিল না। ঠিক দু’দিন পরে অন্য এক পাখিপ্রেমী একই জায়গায় দ্বিতীয় একটি পাখির দেখা পান। এই পাখির ডান পায়ে একটি হালকা সবুজ রঙের ট্যাগ লাগানো ছিল। সেই ট্যাগের সূত্র ধরেই পক্ষী বিশেষজ্ঞরা পাখিটির দীর্ঘ যাত্রাপথের হদিশ পান। বর্তমানে সারা বিশ্বে এই প্রজাতির ৫০০টিরও কম পাখি বেঁচে আছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাখির পায়ে লাগানো সবুজ ট্যাগে ‘Lime 2K’ কোড লেখা ছিল। সেই ট্যাগ দেখেই গবেষকরা নিশ্চিত হন, যে পাখিটিকে ২০২৫ সালের ৬ জুলাই রাশিয়ার চুকোটকা এলাকা থেকে ছাড়া হয়েছিল। তার পরে এই প্রথমবার পাখিটিকে কোথাও দেখতে পাওয়া গিয়েছে। পরিযায়ী পাখির এই দীর্ঘ যাত্রাপথকে বিজ্ঞানীরা ‘ইস্ট এশিয়া-অস্ট্রালেশিয়ান ফ্লাইওয়ে’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাশিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে এই পাখিদের প্রজনন স্থল। এদের গতিবিধি নজর রাখার জন্য পায়ে রঙিন ট্যাগ লাগানো হয়। ট্যাগের রং দেখে বোঝা যায় পাখিটি বন্য পরিবেশে জন্মেছে, না তার ক্যাপটিভ ব্রিডিং হয়েছে। হালকা সবুজ ট্যাগ মানে হলো এই পাখি বন্য পরিবেশে জন্মেছে। অন্যদিকে সাদা রঙের ট্যাগ থাকলে বোঝা যায় সেটিকে খাঁচায় বড় করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হলুদ ট্যাগ ব্যবহার করা হয় মাঝপথে বিশ্রাম নেওয়া পাখিদের চিহ্নিত করতে।
চামচ-ঠোঁট বাটান পাখিদের উপর নজরদারি চালায় একটি আন্তর্জাতিক টাস্ক ফোর্স। পাখিপ্রেমীদের তোলা ছবি থেকে পাওয়া তথ্য এই বিপন্ন পাখিদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। এর আগে ২০১৮ সালে প্রথমবার বঙ্গে এই পাখির দেখা মিলেছিল। ভারতে এই পাখির দেখা পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। এর আগে ১৯৯৬ সালে তামিলনাড়ুতে একবার এই পাখি দেখা গিয়েছিল। বকখালির সৈকতে এই বিরল পাখির আগমন বঙ্গে জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।