নয়াদিল্লি: প্রথমে গোপনে অভিযাত্রীদের খাবারে মিশিয়ে দিতেন ‘বেকিং সোডা’। তারপর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ব্যয়বহুল উদ্ধার অভিযান! এমনকি ভুয়ো চিকিৎসাও। বিমার টাকা হাতাতে বড়োসড়ো চক্রান্তের অভিযোগ উঠল মাউন্ট এভারেস্টের শেরপাদের বিরুদ্ধে। হাতানো হয়েছে প্রায় ২ কোটি ডলার বা ১৮৬ কোটি টাকা । সম্প্রতি কাঠমাণ্ডু পোস্টের এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযাত্রী উদ্ধারকারী তিনটি প্রধান সংস্থার ছ’জন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে নেপাল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতরা প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শেরপাদের পাশাপাশি ট্রেকিং কোম্পানির মালিক, হেলিকপ্টার অপারেটর, হাসপাতাল কর্মী সহ মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, ট্রেকিং এজেন্সির সঙ্গে গোপন আঁতাত রয়েছে শেরপাদের। চক্রান্ত করে তাঁরা অভিযাত্রীদের খাবারে বেকিং সোডা মিশিয়ে দিচ্ছেন। তা খেয়ে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, পেট ব্যথা, বমি, বুক জ্বালা, ঘন ঘন মলত্যাগের প্রবণতার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এরপরই প্রতারণার খেলা শুরু। পর্বতারোহীরা অসুস্থ হয়ে পড়লেই জরুরি হেলিকপ্টার পরিষেবা নেওয়ার জন্য শুরু হচ্ছে জোরাজুরি। ওই পরিষেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তারপর চিকিৎসার নাটকও জারি থাকছে। শেষমেশ বিমা সংস্থাগুলোর কাছে টাকা আদায়ের জন্য ভুয়ো চিকিৎসা ও উড়ানের নথি জমা দিচ্ছে অভিযুক্তরা। জানা গিয়েছে, দুর্নীতির এই বিপুল টাকা ভাগ হয়ে যায় শেরপা, হেলিকপ্টার সংস্থা, ট্রেকিং এজেন্সি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে। ১ হাজার ২৪৮টি উদ্ধার অভিযানের দাবি করা একটি সংস্থা অন্তত ১৭১টি ক্ষেত্রে জালিয়াতি করেছে বলে অভিযোগ। প্রতারণার পরিমাণ প্রায় ৯২ কোটি টাকা। তালিকায় রয়েছে এমনই বহু সংস্থা। নেপালের বিশেষ অপরাধ দমন শাখার প্রধান মনোজ কুমার কেসি জানিয়েছেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শিথিল হওয়ার জেরেই এই কেলেঙ্কারির বাড়বাড়ন্ত। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।