• ভাষা সমস্যায় মাঠে মারা যাচ্ছে মূল ইস্যু, চিন্তায় কেন্দ্রীয় বিজেপি
    বর্তমান | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিজেপির দুমুখো সমস্যা। একদল নেতা বাংলাভাষী। অর্থাৎ বঙ্গ বিজেপির নেতা। এরা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তৃণমূলকে আক্রমণ করছেন বাংলাতেই। কিন্তু মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টির মতো ক্যারিশমা বঙ্গ বিজেপির সেই নেতানেত্রীদের নেই। আবার দ্বিতীয়ভাগে রয়েছেন হিন্দিভাষী কেন্দ্রীয় নেতা। যাঁদের বিজেপির চালিকাশক্তি এবং তূণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখা হয়। যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অথবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁদের আক্রমণের ভাষা, শব্দ ও বাক্যবিন্যাস অনেকটাই সাধারণ মানুষের অধরা ও অচেনা। কারণ হিন্দির সব শব্দের অর্থ বোঝা সম্ভব নয়। আর এই না বোঝার তালিকায় সবথেকে বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে ঘুসপেটিয়া। এই শব্দের অর্থ হিন্দিভাষী ভারতে যতটা সহজ এবং জোরালো, সেই প্রভাব বাংলা অথবা কেরলে ফেলতে পারছে না। কারণ গ্রামাঞ্চলের মানুষকে ঘুসপেটিয়ার অর্থ বোঝাতেই হিমশিম খাচ্ছে বিজেপি। অথচ বাংলার ভোটে এবার ঘুসপেটিয়া অর্থাৎ অনুপ্রবেশকারী নামক শব্দটিই প্রচারের প্রধান অস্ত্র। অথচ সেই অস্ত্র ভাষাগতভাবে বোধগম্য না হলে সব উদ্যোগই জলে যাবে। সেটাই হচ্ছে বলে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খবর পাচ্ছে।

    দলের দিল্লির নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট আসছে যে, সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে ঢোকা এই সব অবৈধ নাগরিকদের সম্পর্কে কোনো তীব্র শব্দ বাংলায় নেই। হিন্দিতে ঘুসপেটিয়া শব্দকে বঙ্গবাসীর বিরাট অংশ বিজাতীয় ভাবছে এবং বুঝতে পারছে না, তেমনই আবার অনুপ্রবেশকারী শব্দ অনেক ভারী। ভোটের ময়দানে সেই শব্দের কোনও ধার নেই। সুতরাং বিজেপি বাংলার ভোটপ্রচারে ধাক্কা খাচ্ছে। প্রধান অস্ত্র এভাবে ভোঁতা হয়ে গেলে বিকল্প কী? যাদের এই ঘুসপেটিয়া নাম দিয়ে টার্গেট করা হচ্ছে, তাদের সরাসরি পরিচয় বোঝানোর উপায় কী? আর কোনো বিকল্প ধারালো শব্দ নেই। বিজেপির বাংলার জন্য নির্বাচনী ইস্তাহারে সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হবে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে। ক্ষমতাসীন হলে অনুপ্রবেশকারীদের উৎখাত করা হবে এই প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হবে। এসআ‌ইআরের সপক্ষে সওয়াল করে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুকে অনেক বেশি করে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচার করবে তাবৎ কেন্দ্রীয় ও বঙ্গবিজেপির নেতানেত্রী। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিজেপি ভাষা নিয়ে সংকটে। অনুপ্রবেশকারী বা ঘুসপেটিয়ার বদলে একই উদ্দেশ্যে কী বলা যায়, সেটা নিয়েও চর্চা হচ্ছে দলের অন্দরে। কেরল থেকে বাংলা অথবা তামিলনাড়ু, বিজেপির কেন্দ্রীয় হিন্দিভাষী নেতানেত্রীর ক্ষেত্রে একটাই সমস্যা—তাঁরা বলছেন অনেক কথা। কিন্তু বুঝছেন কজন? কেরলে অবস্থা আরও খারাপ। কারণ সেখানে অনুবাদ করে দেওয়ার জন্য থাকছেন না কেউ। অর্থাৎ মোদি ম্যাজিক যে তাঁর ভাষণে, সেই ভাষণের অর্থই বুঝছে না। 
  • Link to this news (বর্তমান)