• কর্মীরাই দলের সম্পদ, মালদহে বললেন মমতা
    বর্তমান | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: কর্মীরাই দলের সম্পদ। যাঁরা বিএলএ এজেন্টের কাজ করেন, যাঁরা বুথ ক্যাম্প, ভোট ক্যাম্পে বসেন,মিছিল মিটিং, লড়াইয়ের ময়দানে থাকেন, যাঁরা শীত গ্রীষ্ম বর্ষায় থাকেন,পালিয়ে যান না, তাঁরাই আমাদের দলের সম্পদ। 

    শুক্রবার পুরাতন মালদহের তাঁতিপাড়া ময়দান থেকে এভাবেই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের উৎসাহিত করলেন দলনেত্রী। দলীয় কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের আমি খুব ভালবাসি এবং শ্রদ্ধা করি। আমি নিজেও দলের মাটির কর্মী। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এক পয়সা মাইনে নিই না। সাধারণ ভাবে থাকি। অহংকার চলে এলেই দুর্বলতা।  

    এদিন মালদহ কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী লিপিকা বর্মন ঘোষের প্রচারে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর আড়াইটে নাগাদ সভামঞ্চে উঠে প্রথমেই তিনি প্রার্থীর প্রশংসা করে বলেন, আমি তাঁকে খুব পছন্দ করি, মিষ্টি দেখতে শুধু নয়, স্বভাবটাও ভালো। এদিন মমতার মঞ্চে প্রয়াত নেতা বাবলা সরকারের স্ত্রী চৈতালি সরকারও উপস্থিত ছিলেন। পুরাতন মালদহ পুরসভার দলীয় কাউন্সিলাররা সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও ছিলেন। 

    এদিন ভোট প্রচারেও মমতার মুখে শোনা যায় প্রয়াত নেতা বাবলা সরকারের কথা। তিনি বলেন, চৈতালি আমার বহুদিনের সাথী। বেচারা বাবলা সরকার খুন হয়েছে, আমার খুব পছন্দের ছিল। এদিন মঞ্চে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর নাম নিয়ে মমতা বলেন, মালদহে আমার চিরকাল পছন্দের দু’তিন জন বাবলা, কৃষ্ণেন্দু, বিপ্লব নায়েক। যখনই মার খেত আমি ছুটে আসতাম। আমি ভুলিনি চাঁদু সেখের কথা।

    এরপর মালদহবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দেন,  মালদহের মাটি আমার কাছে পবিত্র মাটি, নতুন মাটি নয়। এই মাটি সোনার মাটি, সোনার চেয়ে খাঁটি। সেই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কেন এত লড়াই করতে পারে জানেন। তৃণমূলের নেতারা দলের সম্পদ নয়। কর্মীরা দলের সম্পদ। মালদহের মানুষ আম আর আমসত্ত্ব খান, গর্ব করুন। আর যারা ভোটারদের নাম কেটেছে তাদের একটি ভোটও দেবেন না। কোনো ধর্ম তাদের ক্ষমা করবে না। 

    মোথাবাড়ি কাণ্ডের রেশ টেনে মমতা এদিন বলেন, মালদহের একটি ঘটনা বাংলার মাথা নত করে দিয়েছে। এজন্য তো স্থানীয় মানুষরা দায়ী নয়। ক্ষোভ তাদের থাকতেই পারে।

    তিনি আরও বলেন, রাজস্থানে বিজেপির ডবল ইঞ্জিনের সরকার। বৃহস্পতিবার সেই রাজস্থানেই মালদহের এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে মারা হয়েছে। তাঁর পরিবারকে মৃতদেহ দেওয়া হয়নি। 
  • Link to this news (বর্তমান)