শিল্পী নন্দলাল বসুর উত্তরসূরির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ, তীব্র বিতর্ক
বর্তমান | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: যাঁর তুলির টানে সেজে উঠেছিল ভারতের সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপি, সেই কিংবদন্তি শিল্পী নন্দলাল বসুর উত্তরসূরির নামই কি না বাদ পড়ল দেশের ভোটার তালিকা থেকে! নন্দলাল বসুর নাতি, ৮৮ বছর বয়সী শ্রী সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর অশীতিপর স্ত্রীর নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তাঁরা দুজনেই শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শ্রী সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রীকে প্রথমে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার আওতায় রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, এরপর কোনও উপযুক্ত কারণ ছাড়াই তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ‘গভীর পরিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করে তৃণমূল তাদের সোশ্যাল মিডিয়া এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে, ‘ভারতবর্ষের সংবিধানের অলংকরণ করেছিলেন যিনি, তাঁরই রক্ত ও উত্তরাধিকার আজ নিজ দেশেই ব্রাত্য।’ বাংলায় যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের মরিয়া বিজেপি এবং তাদের অঙ্গুলিহেলনে চলা কমিশন কতটা নিচে নামতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে দাবি তৃণমূলের। দলের পক্ষ থেকে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে বলা হয়েছে, ‘বাংলার ভূমিপুত্রদের নাম মুছে ফেলে ভিন রাজ্য থেকে ভুয়ো ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চক্রান্ত চলছে। এমনকী তাঁদের নামও মুছে ফেলা হচ্ছে যাঁদের রক্ত ও ঐতিহ্য এই জাতির আত্মার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।’
বীরভূম জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘অমর্ত্য সেনের পর এবার নন্দলাল বসুর পরিবার। বাংলার বিশিষ্টজনদের হেনস্থা করাটাই এখন কেন্দ্রীয় শক্তির দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এই ঘটনায় বিদ্বজ্জন থেকে শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিকরাও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, যে পরিবারের অবদানে সংবিধান চিত্রিত হয়েছিল, সেই পরিবারের অশীতিপর সদস্যের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া কেবল প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এক চরম অসম্মান। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।