নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও বারাকপুর: শুক্রবার আমডাঙা, নৈহাটি ও জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার করলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব। আমডাঙার তৃণমূল প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকির সমর্থনে দত্তপুকুর জয়পুল থেকে স্টেশন সংলগ্ন খেলার মাঠ পর্যন্ত রোড শো করেন তিনি। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে অভিনেতার রোড শোয়ে ভিড় উপচে পড়ে। রোড শো শেষে হেলিকপ্টারে চেপে তিনি বিকাল সাড়ে ৩টে নাগাদ নামেন নৈহাটির পলাশী মাঝিপাড়ার মাঠে। শুরু হয় নৈহাটি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দের সমর্থনে বিশাল রোড শো। মাঝিপাড়া থেকে কাঁপা মোড়, মাত্র তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই সেই মিছিলের লেগে গিয়েছে পৌনে এক ঘণ্টা। রাস্তার দু’পাশেও ছিল হাজার হাজার মানুষের ভিড়। বিশেষ করে মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হুডখোলা জিপে উঠে দেব হাত নেড়ে সবাইকে অভিনন্দন জানান দেব। অটো, টোটো, বাইকে তৃণমূলের কর্মীরা তাঁর সঙ্গে চলতে থাকেন। কাঁপা মোড় থেকে গাড়িতে দেব চলে আসেন মামুদপুর। সেখানে ছিলেন জগদ্দল আসনের প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম। সেখানে আসেন নৈহাটির তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে এবং বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক।
দত্তপুকুরে দেবের কর্মসূচিতে ভিড় সকাল থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। তারকা সাংসদ আসার অনেক আগেই ভিড় উপচে পড়ে রাস্তায়। দেবের হেলিকপ্টার মাথার উপর চক্কর কাটতেই কালো মাথার ভিড় সমস্বরে তৃণমূলের জয়ধ্বনি দিতে শুরু করে। দত্তপুকুরের ইসুবাটি এলাকার একটি মাঠে তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী হেলিপ্যাড। গ্রামে দেব আসবেন শুনে মহিলারা অনেকে আগেভাগে ঘরকন্না সামলে রাস্তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। দেবকে কাছে থেকে দেখতে অল্পবয়সিদের ভিড়ও ছিল নজরকাড়া। তাঁদের মন জয় করতে চেষ্টায় খামতি রাখেননি দেব। সেখান থেকে তৃণমূল প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকিকে নিয়ে দেব চলে আসেন জয়পুল এলাকায়। প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে জয়পুলের রাস্তার দু›ধারে তখন হাজার হাজার মানুষের ভিড়। রোড শো’র জন্য নীল-সাদা ফুল দিয়ে সাজানো গাড়ি অপেক্ষায় ছিল। গাড়ি থেকে নামতেই দেবকে লক্ষ্য করে হাজার হাজার মানুষ ফুল ছুড়তে শুরু করেন। ভিড় ঠেলে দুই তরুণীকে গোলাপ ফুল উপহার দিতেও দেখা গিয়েছে দেবকে। সেই ছবি মোবাইলবন্দি করতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম অবস্থা হয় পুলিশের। দেব বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালে সাংসদ হয়েছি। গত কয়েক বছরে প্রচুর কাজ হয়েছে। কিন্তু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য রাজস্থানে, ওড়িশায় মার খেতে হচ্ছে বাঙালিকে। এ কোন রাজনীতি শুরু হয়েছে দেশে! আমাদের রাজ্যে তো ভিন রাজ্যের মানুষ থাকেন। কাউকে মার খেতে হয় না। তাহলে বাঙালিদের অন্য রাজ্যে মারা হবে কেন?’ দলীয় প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।