• বাম ও কংগ্রেস মুখোমুখি লড়াইয়ে ভোট কাটাকাটির অংক নিয়েই জোর জল্পনা
    বর্তমান | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বজবজ: গত বিধানসভা নির্বাচনে মহেশতলা, বজবজ, সাতগাছিয়া কেন্দ্র সহ জেলার অন্যান্য আসনে সিপিএম, কংগ্রেস জোট করে প্রার্থী দিয়েছিল। সেই জোটে ছিল আইএসএফ-ও। কিন্তু এবার সিপিএম ও কংগ্রেসের জোট হয়নি। ফলে এই আসনগুলিতে সিপিএম ও কংগ্রেসের লড়াই হবে। সিপিএম অবশ্য এবারও আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে রফা করেছে। তাই এই তিন কেন্দ্রে আইএসএফ আলাদা কোনো প্রার্থী দেয়নি। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, এবার সিপিএম এবং কংগ্রেস আলাদা প্রার্থী দেওয়ার পিছনে কি রাজনৈতিক কোনো কৌশল কাজ করছে? দলের অনুগত সমর্থক ও ভোটারদের ফিরিয়ে আনার এটা একটা কৌশল কি? এতে কি উভয় দলেরই ভোট বাড়তে পারে? না কি ভোট কাটাকাটির সুযোগ আরও বাড়বে? এসব প্রশ্নে তুমুল জল্পনা চলছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে। 

    সিপিআইএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রভাত চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দল এবারও চেয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ দল, কংগ্রেস, আইএসএফ সহ সবাইকে একজোট করতে। কিন্তু কংগ্রেস আসেনি। আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সিপিএম সহ বামদলগুলি প্রার্থী দিয়েছে। এতে ভোট কাটাকাটির কোনো সুযোগ নেই। সিপিএমের নিজস্ব ভোট এবার বাড়বে। পাশাপাশি, গোটা রাজ্যে আমাদের বাম জোট এমন একটা জায়গায় পৌঁছাবে যে আমাদের ছাড়া কেউ সরকার গড়তে পারবে না। এটাই এবার আমাদের টার্গেট।’ মহেশতলার প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা ২০ বছরের কাউন্সিলার এবং প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান প্রশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘এককভাবে প্রার্থী দিয়ে কংগ্রেসের ভোট বাড়বে না। কারণ, নানা আর্থিক জনমুখী প্রকল্প ঘোষণায় ভোটাররা তৃণমূলের দিকে চলে গিয়েছে। আরও একটি বিষয় হল, কংগ্রেস দলের প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক বিচার হয়নি।’ মহেশতলাতে তাঁকে কেন কংগ্রেস টিকিট দিল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি নজরুল ইসলাম বেগ বলেন, ‘এতদিন সিপিএমের সঙ্গে জোট করার জন্য দলের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ভুল বার্তা যাচ্ছিল। এবার সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসা গিয়েছে। ভোট বাড়বে কি না, সেটা বড়ো কথা নয়। বরং কংগ্রেসের প্রতীকটাই সবাই ভুলে গিয়েছিল। এবার সেখানে দল সব জায়গায় প্রার্থী দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)