মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও পুলিশকে মারধরের মামলা রয়েছে বালুরঘাটে!
বর্তমান | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালিয়াচক কাণ্ডে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ধৃত আইনজীবী তথা মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগে শ্লীলতাহানি ও পুলিশকে মারধরের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ২০১৩ সালে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জের বাসিন্দা এক তরুণী মোফাক্কেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
আদতে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা মোফাক্কেরুল বিহারের ভাগলপুর থেকে পাশ করা আইনজীবী। বারবার বিতর্কে জড়িয়ে পড়াটা তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। উত্তর দিনাজপুরের এক বেসরকারি আইনি- সচেতনা সংস্থার পরামর্শদাতা হিসেবে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল কুমারগঞ্জের বাসিন্দা বছর তেইশেরএক তরুণীর সঙ্গে। অভিযোগ, পেশার সুযোগ নিয়ে মোফাক্কেরুল ওই তরুণীর শ্লীলতাহানি করেন। শ্লীলতাহানির ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবরে। দুর্গাপুজোর সময় ‘নো এন্ট্রি’ অগ্রাহ্য করে ইটাহার থেকে বালুরঘাটে ঢুকতে গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন এই মিম নেতা। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশকে মারধর করার পাশাপাশি তিনি সরকারি কাজে বাধাও দেন। বাধ্য হয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল বালুরঘাট থানার পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়ই মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তাঁরই সহকর্মী তথা কুমারগঞ্জের বাসিন্দা ওই তরুণী। পুলিশকে মারধর এবং তরুণীর শ্লীলতাহানি, দুই মামলায় সবমিলিয়ে প্রায় ৫৮ দিন জেল খাটার পর কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পান এই আইনজীবী। এদিকে, ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে মোফাক্কেরুল মিমের প্রার্থী হয়েছিলেন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার কেন্দ্র থেকে। নিবার্চন কমিশনের কাছে পেশ করা হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে বালুরঘাট, ইটাহার, রায়গঞ্জ থানায় জালিয়াতি, প্রতারণা, হুমকি, সরকারি কর্মচারীকে মারধর ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এখানেই শেষ নয়! গত বছর ৩ মার্চ মাসে বালুরঘাটগামী চলন্ত ট্রেনে এক তরুণীর অশালীন ভিডিও তোলা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, সেই পর্বে সোশ্যাল মিডিয়াতে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মোফাক্কেরুল।