• বারুইপুর পূর্ব: পানীয় জলের সংকট নিয়ে প্রচারে বিরোধীরা, পালটা তৃণমূলের অস্ত্র ‘কেন্দ্রের বঞ্চনা’
    বর্তমান | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বৃন্দাখালি পঞ্চায়েত এলাকায় মাঝপুকুর ছাড়িয়ে কিছুটা গেলেই চোখে পড়বে একটি অর্ধসমাপ্ত জলের ট্যাঙ্ক। সামনে পড়ে আছে জং ধরা লোহার পাইপ। এমন অবস্থা কেন? জিজ্ঞাসা করতেই এক স্থানীয় বাসিন্দা বলে উঠলেন, ‘জলের ট্যাঙ্কের কাজ বন্ধ হয়ে আছে অনেকদিন। আমাদের পানীয় জলের সমস্যা আর মিটল না! আশপাশের গ্রামেও মানুষ এই সমস্যায় ভুক্তভোগী।’ এলাকাটি বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এখানে উন্নয়ন সামনে রেখেই প্রচারে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু লোকের মুখে মুখে ঘুরছে পানীয় জলের সমস্যার কথা। আসন্ন নির্বাচনে এই ইস্যু বড় ফারাক গড়ে দিতে পারে বলে তাঁদের দাবি। সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ময়দানে শাসক-বিরোধী সব পক্ষ।

    বারুইপুর ব্লকের ৯টি ও জয়নগর ১ নং ব্লকের ৬টি পঞ্চায়েত রয়েছে এই বিধানসভায়। পানীয় জলের সমস্যা সব অঞ্চলেই রয়েছে কমবেশি। বেগমপুর, ধোসা, সাউথ গড়িয়া, বৃন্দাখালি, হাড়দহ, খাকুড়দহ প্রভৃতি অঞ্চলের মানুষ সেকথা স্বীকার করেছেন।  তবে তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্র জলজীবন মিশনের টাকা বন্ধ করে দেওয়াতেই যাবতীয় সমস্যা হচ্ছে। জলের পাইপলাইনের কাজ মাঝপথে বন্ধ করে দিয়েছেন ঠিকাদাররা। তাই সর্বত্র বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে, তাঁরা মূলত জলের সমস্যা নিয়ে সরব হচ্ছেন বলে দাবি তৃণমূল শিবিরের। কেউ বলছেন, অনেকটা দূরে জল আনতে যেতে হয়। কারও আবার অভিযোগ, ‘কল আছে, জল নেই’। কেনা জলের উপর ভরসা করতে হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন। তাই ভোটের পর যেই জিতুক, জল কষ্ট দূর করার আবেদন রাখছেন ভোটাররা। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিভাস সর্দার বলেন, ‘জল কষ্ট আছে ঠিকই। কেন্দ্র টাকা বন্ধ করলেও আমাদের সরকার চেষ্টা করছে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে। ভোটে জেতার পর সর্বাগ্রে জলের সমস্যা মেটানোর দায়িত্ব নেব।’

    এই ইস্যুতেই শাসক দলকে চেপে ধরতে চাইছে বিরোধীরা। তৃণমূল সরকারের গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণে জল সরবরাহের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শেষ করা যায়নি বলে তাদের অভিযোগ। বারুইপুর পূর্বের সিপিএম প্রার্থী স্বপন নস্কর বলেন, ‘বাম সরকার গঠন হলে বা আমি জিতলে জলকষ্ট থেকে মানুষকে রেহাই দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেব। ১৫ বছরে তৃণমূল এখানকার জলের সমস্যা সমাধান করতে পারল না কেন?’ বিজেপি প্রার্থী টুম্পা সর্দারের অভিযোগ, ‘কেন্দ্র টাকা দিলেও সেসব নয়ছয় করেছে তৃণমূল সরকার। তাই পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ করতে পারেনি। ভুক্তভোগী মানুষ এখন বিজেপিকে চাইছে। আমাদের সরকার এলেই প্রতি ঘরে জল পৌঁছে দেওয়া হবে।’

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী প্রায় ৫০ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটেও এই কেন্দ্র থেকে জোড়াফুল শিবিরের এগিয়ে থাকার ব্যবধান ছিল বেশ ভালো। স্বভাবতই এই পরিসংখ্যান শাসক দলকে স্বস্তিতে রেখেছে। তবে এসআইআরে অনেক নাম বাদ পড়ার প্রভাব ভোটবাক্সে কতটা পড়বে বা কীভাবে পড়বে, তা চিন্তায় রেখেছে সব পক্ষকে। 
  • Link to this news (বর্তমান)