• বাগডোগরা থেকে ধৃত ‘মূল চক্রী’ মিম নেতা
    বর্তমান | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও মালদহ: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল মালদহের মোথাবাড়িতে। সেই আন্দোলনেই উসকানি দিয়ে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হয়। দুপুর থেকে রাত আটকে রাখা হয় ‘বিচারাধীন’ তালিকা যাচাইকারী সাত বিচারককে। বুধবারের সেই ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। তিনি উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা। শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরু পালানোর আগেই ধরা পড়ে যান মোফাক্কেরুল। তাঁর সহযোগী ইউটিউবার আক্রামুল বাগানীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধরা পড়ার পর সমাজমাধ্যমে লাইভ করে মোফাক্কেরুল দাবি করেন, ‘মোথাবাড়িতে চলা বিক্ষোভ-ঘেরাওয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। কাউকে উসকানিও দিইনি।’ ইতিমধ্যেই মালদহের ঘটনায় তদন্তভার হাতে নিয়েছে এনআইএ। এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিংয়ের নেতৃত্বে একটি টিম এদিন বিকেলে মালদহ পৌঁছে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেদিন আটকে থাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে শীঘ্রই কথা বলবেন ওই টিমের সদস্যরা।

    কিন্তু শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এমন চেহারা নিল কেন? উত্তর খুঁজতে গিয়েই সামনে আসে মোফাক্কেরুলের উসকানির বিষয়টি। গাড়ির মাথায় উঠে তাঁকে উসকানিমূলক বক্তৃতা দিতেও দেখা গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবি-ভিডিয়োতে। ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছিল না। কালিয়াচক থানায় তিনটি ও মোথাবাড়িতে দুটি মামলা দায়ের হয় তাঁর নামে। এর মধ্যেই গোটা ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয় কমিশন।

    যদিও এনআইএ টিম তদন্ত শুরুর আগেই মোফাক্কেরুলের গতিবিধি জানতে ময়দানে নেমে পড়েছিলেন সিআইডি ও জেলা পুলিশের কর্তারা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বিমানে ভিনরাজ্যে পালাতে পারেন অভিযুক্ত আইনজীবী। সেইমতো বাগডোগরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। এদিন সকালে বেঙ্গালুরুর বিমান ধরতে সেখানে আসেন মোফাক্কেরুল। এবং আগে থেকে সেখানে ওঁত পেতে থাকা সিআইডি টিমের হাতে ধরা পড়ে যান। আইনি পদ্ধতি মেনে তাঁকে নিজেদের হেপাজতে চেয়ে আজ, শনিবারই আদালতে আবেদন জানাবে এনআইএ। মোফাক্কেরুলের গ্রেপ্তারি নিয়ে এডিজি উত্তরবঙ্গ কে জয়রামন বলেন, ‘কালিয়াচক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি কেস রুজু করা হয়েছে। সেই মামলাতেই এই গ্রেপ্তারি।’ তিনি এও জানিয়েছেন, গোলমালের ঘটনায় মোট ১৯টি কেস দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৫ জনকে। বিচারকদের উদ্ধারে দেরি হয়েছে। তবে এতে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না।
  • Link to this news (বর্তমান)