নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের মুখে বাংলাকে অপদস্থ করার বড়োসড়ো চক্রান্ত। এই ভাষাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাঠগড়ায় তুলেছেন মালদহের ঘটনাকে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কীভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠল? বিচারকরা ঘেরাও হয়ে রয়েছেন, তা কেন প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে জানানো হল না? কেনই বা সব জেনেশুনেও কমিশনের বসানো অফিসাররা ১৫ ঘণ্টা যাবৎ কোনো ব্যবস্থা নিলেন না? গেরুয়া চক্রান্তে? এই প্রত্যেকটি প্রশ্নই কিন্তু দিনের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চক্রান্তের দাবিতেই সিলমোহর দিচ্ছে। সবচেয়ে বড়ো কথা, এমন একটা ঘটনা যে ঘটতে পারে, তার রিপোর্ট দিয়েছিলেন রাজ্যের গোয়েন্দারা। তাঁরা জানিয়েছিলেন, এসআইআরে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে জমি তৈরি করেছে সিমি, পিএফআইয়ের মতো কট্টরপন্থী সংগঠন। টার্গেট মূলত মালদহ-মুর্শিদাবাদ। ছোটোখাটো জমায়েতের মধ্যে নিজেদের লোক ঢুকিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে হিংসার রূপ দেওয়ার ছক ছিল। আর সেটাই কমিশনের বসানো প্রশাসনিক কর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও উঠছে ‘নিষ্ক্রিয়তা’র অভিযোগ।
তদন্তে ইতিমধ্যেই জানা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পুরোভাগে মূলত ছিল মিম, আইএসএফ। স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতাকেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই মঞ্চকেই আন্দোলনের নামে হিংসা ছড়ানোয় ব্যবহার করে সিমি ও পিএফআইয়ের সদস্যরা। ওই জমায়েতের মধ্যে ঢুকে পড়ে তারা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সেই প্লট তৈরি হয়েছিল আগেই। মালদহ-মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায় তারা বৈঠক করেছিল। সেখানে ঠিক হয়েছিল, আন্দোলনের মাঝে ঢুকে পড়বে তাদের সদস্যরা। মগজ ধোলাই করবে আম জনতার। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে হিংসার দিকে নিয়ে যেতে হবে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই কৌশলে যোগ দিয়েছিল মিম-আইএসএফের একটা অংশও। তাদের মধ্যে অনেকেরই আবার ‘সিমির ব্যাকগ্রাউন্ড’ রয়েছে বলে জেনেছেন গোয়েন্দারা। এই অংশটিরই পরিকল্পনা ছিল, সাধারণ মানুষকে দিয়ে সড়ক অবরোধ করাতে হবে। যাতে কেউ বেরতে না পারে। আর কেউ বেরনোর চেষ্টা করলেই ইট ছোড়া হবে। পুরোটাই হবে ভিড়ের মধ্যে মিশে। মালদহের কালিয়াচকে সেই ভিড়ের ছবি দেখেই গোয়েন্দারা চিহ্নিত করেন হিংসায় ‘মদতদাতা’দের। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই গোটা বিষয়টির রিপোর্টই তো আগে দিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তা সত্ত্বেও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? তৃণমূল বলছে, এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর সাফ কথা, গোটা চক্রান্তের ব্লু-প্রিন্ট বিজেপি করেছে। বাকিরা শুধু কার্যকর করছে। মালদহ-মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় অশান্তি ছড়ালে তার প্রভাব পড়বে সরাসরি ভোটে। অর্থাৎ, তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে। ভোট কাটাকাটির খেলায় এভাবেই জিততে চাইছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু এরপরও হুংকার ছুড়েছেন, এভাবে বাংলায় ভোটে জিততে পারবে না মোদি-শাহের দল। কারণ, এই রাজ্য বিভাজনের রাজনীতিকে ঘৃণা করে।