মালদায় বিচারকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় অভিযুক্তদের রেহাই দিয়ে নির্দোষদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মানিকচকের সভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ‘আসল দোষীরা পালিয়ে গিয়েছেন, এখন কেন্দ্রীয় সংস্থা স্থানীয় ছেলেমেয়েদের গ্রেপ্তার করছে।’ এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই দায়ী করেছেন তিনি। ঘটনার পদক্ষেপেও তিনি চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন। মমতার কথায়, এজেন্সি সব শাহের হাতে। তাই এও হচ্ছে তাঁরই অঙ্গুলিহেলনে বলে দাবি নেত্রীর। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে বাইরে থেকে লোক এনে ভোটে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টার অভিযোগেও সরব হলেন তিনি। ভোটারদের ইভিএম নিয়েও সতর্ক করেন তিনি।
মালদার মানিকচকে এনায়েতপুর গ্রামীণ গ্রন্থাগার ফুটবল ময়দানের জনসভা থেকে মমতা বলেন, ‘দু’টো কমিউনাল পার্টি এসে বিচারকদের ঘেরাও করল আর পালিয়ে গেল। এখন মাঝখান থেকে স্থানীয় ছেলেমেয়েরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। NIA-র নাম করে ৪০-৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ এখানেই শেষ নয়, শাহের নাম করে মমতার তোপ, ‘যারা দোষ করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করোনি। নির্দোষদের গ্রেপ্তার করছ কেন? ED, CBI, NIA, BSF, বর্ডার কার হাতে? মোটাভাইয়ের হাতে! তুমি তৃণমূলকে চোর বলো। বর্ডার থেকে টাকা কোথায় যায় মোটাভাই? তুমি তখন মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে বসে থাকো!’ এ দিনও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে SIR-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকদের কাছে যেতে নিষেধ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, ‘বিচারকদের কাছে যাবেন না। কোনও অশান্তিতে জড়াবেন না।’
এনায়েতপুরের সভায় বক্তব্য রাখার মাঝেই তৃণমূল সুপ্রিমো উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, কার কার নাম কেটেছে? তার পরে যত মানুষ হাত তোলে, তা দেখে তিনি অবাক হয়ে বলেন,‘এত লোকের নাম কেটে দিয়েছে! এতজনের নাম বাদ! তা হলে ভোট দেবে কে? ভোট কি বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন দেবে? এ দিকে কমিশনের সামনে ডেপুটেশন দিতে পারবে না। সব কণ্ঠরোধ করেছে। মানুষের কণ্ঠরোধ করা যায় না। ভোটাধিকার সংবিধানের অধিকার। মানুষকে লাইনে দাঁড় করানোর সরকার এরা। এদের দূর করতেই হবে।’ বিজেপির নির্দেশ মেনে কমিশন বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের এলাকায় নাম বাদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মালদার সভা থেকেও এ দিন বার বার ‘বহিরাগত’ নিয়ে সতর্ক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, ‘সতর্ক থাকবেন ট্রেন, বাসে করে এলাকায় যাতে গুন্ডা না ঢোকে। লক্ষ্য রাখুন, বাইরে থেকে কারা আসছে, কোন হোটেলে থাকছে। ভোটের বাজারে টাকা আমদানি হচ্ছে বাইরে থেকে। কেন্দ্রীয় সরকার এর সঙ্গে যুক্ত। এজেন্সিকে দিয়ে এ সব করছে। আমি ভয় পাইনি। আপনারাও পাবেন না।’
ভোটে EVM কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়েও গেরুয়া শিবিরকেই দায়ী করেছেন তিনি। মমতার দাবি, ‘বিজেপি প্রথমে ভোট কাটবে। পরে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করবে। ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে আটকাবে। বিজেপির ফাঁদে পা দেবেন না। EVM তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকার। ইভিএম খারাপ থাকলে ভোট করতে দেবেন না। বলবেন আগে নতুন মেশিন নিয়ে আসতে। দেখে নেবেন ইভিএম-এর সঙ্গে ভিভিপ্যাট আছে কি না।’
২৬-এ জেতার পরে দিল্লি থেকেও বিজেপিকে হটানোর হুঙ্কার মমতার। তাঁর কথায়, ‘বাংলায় জিতে, বাংলাকে টার্গেট করেছে BJP। আগামী দিন তৈরি থাকুন মোটাভাই। আমরা দিল্লিকে টার্গেট করছি। আচমকা দেখবেন, নিজেরাই নিজেদের পতন ঘটাবেন। অপেক্ষা করব সেই দিনের জন্য।’ গেরুয়া শিবিরকে বিঁধে তাঁর মন্তব্য,‘বিজেপি কোনও ধর্ম মানে না। ওদের ধর্ম শুধু অশান্তি করা।’
মালতিপুরের সভা থেকে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মৌসম নূরকেও নাম করে কটাক্ষ করেন নেত্রী। মালতিপুরে মৌসমের আসনে দাঁড়িয়েই তাঁকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘মালদার কোনও প্রতিনিধি লোকসভায় ছিল না বলে আমরা এই জেলার প্রতিনিধিকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। অনেক দিন ছিলেন তিনি। কিন্তু ভোটের আগেই রিজ়াইন করে অন্য দলে গিয়েছেন। তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু পলাতকদের মানুষ ক্ষমা করবে না। ও তো ভোটে লড়ে সাংসদ হতে পারেননি। বিধায়কদের ভোটে জিতেছিলেন। আমার ভোটও পেয়েছিলেন। নিজে জীবনে রাজ্যসভায় যেতে পারিনি। এত সুযোগ পাওয়ার পরেও ভোটের সময়ে দলের বিরোধিতা ! বিশ্বাসঘাতক যেন ভোট না পায়।’