নিতাই রক্ষিত
কলেজে পড়ার সময় থেকেই ছাত্র আন্দোলনে হাতেখড়ি। ছাত্র সংগঠন ডিএসও (DSO)-র হয়ে বহু আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত রয়েছেন। ছাত্র স্বার্থে, শিক্ষার স্বার্থে বহু আন্দোলনের শরিক সুশ্রীতা সোরেনই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে SUCI-এর প্রার্থী।
বছর ৩০ বয়স। সুশ্রীতা সোরেনের বাড়ি গড়বেতার ধারাঝুড়ি গ্রামে। সাঁওতালি ভাষা নিয়ে পাঁশকুড়া বনমালী কলেজ থেকে স্নাতক। কলেজে পড়ার সময় থেকেই ছাত্র সংগঠন ডিএসও-র সঙ্গে যুক্ত হন। বহু আন্দোলন সংগ্রাম সংগঠিত করেন। মাস্টার ডিগ্রি করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এখন গবেষণার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পড়াশোনার জন্য থাকেন মেদিনীপুর শহরেই।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে এক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রথমবার প্রচারের আলোতে এসেছিলেন সুশ্রীতা সোরেন। গত বছর ১ মার্চ তৃণমূলপন্থী অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলন ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে এক ছাত্রের রক্তাক্ত হওয়া, তারই প্রতিবাদে ৩ মার্চ DSO, SFI-এর মতো একাধিক ছাত্র সংগঠন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দেয়। মেদিনীপুরেও সেই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
সেই কর্মসূচি ছত্রখান করতে পুলিশ একদল ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযোগ ওঠে, মেদিনীপুর মহিলা থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে গরম মোম গায়ে ফেলে অমানবিক অত্যাচার চলে। সে সংক্রান্ত মামলাও দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই ছাত্রীদের তালিকায় ছিলেন সুশ্রীতাও। অত্যাচারের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিতও হয়েছিল। সেই সুশ্রীতাই এ বার মেদিনীপুরে ভোটের ময়দানে।
সকাল-বিকেল নিয়ম করে প্রচার করছেন এলাকায়। বলছেন, রাজ্যের শিক্ষার হাল, চাকরির হাল নিয়ে। সুশ্রীতা জানান, এ রাজ্যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা তলানিতে ঠেকেছে। একের পরে এক সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ কারও কোনও হেলদোল নেই। অথচ পড়ুুয়াদের মারার জন্য লোক আছে।
আজও মনে আছে, গত বছর মার্চের কথা। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া, মেদিনীপুরে মহিলা পুলিশ লকআপে তাঁদের উপরে অকথ্য অত্যাচারের বিবরণ দিতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সুশ্রীতা। বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য সিট গঠন হয়েছে, তদন্ত চলছে।’
SUCI প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত প্রচারে বেরোচ্ছেন সুশ্রীতা। দেশ ও রাজ্যের নানা সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার হতশ্রী দশা নিয়েও সরব হচ্ছেন। সুশ্রীতার কথায়, ‘আমাদের রাজ্যে ৮২০৭টি সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৬০৭টি সরকারি স্কুল বন্ধ হতে চলেছে। দিনের পরে দিন সরকারি স্কুলগুলোতে ছাত্র সংখ্যা কমে যাচ্ছে। দুর্নীতির জন্য ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে। অসংখ্য শূন্যপদ খালি পড়ে আছে। কোনও নিয়োগ হচ্ছে না। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নেই। কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে শিক্ষাকে বেসরকারিকরণের চেষ্টা করছে। আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ গ্রান্ট নিয়মিত হচ্ছে না। হস্টেলগুলির পরিকাঠামো অত্যন্ত খারাপ।’
সুশ্রীতা জানান, তিনি নিজেও নেট, সেট কোয়ালিফাই করে বসে আছেন। বলেন, ‘নিয়োগই হচ্ছে না, চাকরি পাব কী করে?’ শিক্ষার বেহাল ছবিকে হাতিয়ার করেই দাপিয়ে ভোটপ্রচার করছেন সুশ্রীতা।