আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সুবিধা বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে রাজ্যে ৪৬৬০টি অক্সিলিয়ারি অর্থাৎ সহায়ক ভোটকেন্দ্র তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের মধ্যে যে সমস্ত ভোটকেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ১২০০-র বেশি সেগুলির ওপর চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোটারদের লাইনে দাঁড়ানোর সময় কমবে।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সুষ্ঠু হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও, ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ৩২১টি ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের অনুমোদনও দিয়েছে কমিশন।
নতুন সহায়ক ভোটকেন্দ্র যুক্ত হওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৫,৩৭৯টি। অন্যদিকে, শনিবার থেকে জেলায় জেলায় ঘুরবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল।
ভোটের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতেই তাঁর এই সফর। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোজ শুরুতেই যাবেন পূর্ব মেদিনীপুরে। সেখানকার প্রশাসনিক দপ্তর ঘুরে দেখার পাশাপাশি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।
কোথায় নির্বাচনের জন্য কী ব্যবস্থা করা হয়েছে, নিরাপত্তার ব্যবস্থা কমিশনের গাইডলাইন মেনে হয়েছে কি না, সব খতিয়ে দেখবেন। এরপর বাকি জেলাগুলিতেও যাবেন মনোজ। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় হবে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট।
ফলপ্রকাশ ৪ মে। রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি চলছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারও চলছে জোরদার। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে শুরু করেছেন।
গত ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণার দিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। তার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ করা হবে।
বাংলা ছাড়াও অসম, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও কেরালায় এপ্রিলে বিধানসভা ভোট হবে। ভোটের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। রাজ্য প্রশাসনের অধিকাংশ শীর্ষ আধিকারিককে বদলি করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য বারের ভোটের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সংখ্যায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে বাংলায়। সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতি বুথে ওয়েবকাস্টিং চালু থাকবে। থাকবে সিসি ক্যামেরার নজরদারি।
ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকা যাবে না। মোবাইল সঙ্গে থাকলে বাইরে তা জমা দিয়ে ঢুকতে হবে। এই অবস্থায় শনিবার থেকে জেলায় জেলায় যাওয়া শুরু করছেন মনোজ।