• দার্জিলিং, সিকিমে হোটেলে LPG সিলিন্ডারের সঙ্কটে কী অবস্থা? গরমের ছুটিতে যাওয়ার আগে জানুন
    আজ তক | ০৪ এপ্রিল ২০২৬
  • LPG Darjeeling Sikkim Crisis: পর্যটকদের কাছে পাহাড় ভ্রমণের প্রাথমিক চাহিদার মধ্যেই থাকে মানেই ধোঁয়া ওঠা মোমো আর গরম থুকপা। চিকেনের নানা লোভনীয় পদ যেমন শেফালে কিংবা সেল রুটির চাহিদা নিতান্ত কম নয়। কিন্তু এখন যদি দার্জিলিং ও সিকিমের কোনও হোটেলে গিয়ে দেখেন, সেখানে পছন্দের মেনুটি নেই। কিংবা থাকলেও তার দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি, তখন কেমন লাগবে? দুঃখজনক হলেও আপাতত পরিস্থিতি সেরকমই। কোথাও কোনও হোটেলে মেনুটি নেই, কোথাও দাম বেশি। তবে এর মধ্যে একটাই স্বস্তি, অভুক্ত অবস্থায় থাকতে হবে না। কিন্তু তাতে কি ভ্রমণের আনন্দ পূর্ণ হয়? পাহাড়ে এলপিজি সঙ্কটের জেরে  হোটেল থেকে হোম-স্টে, সর্বত্রই ত্রাহি ত্রাহি রব।

    পাহাড়ের হোটেলগুলোর অবস্থা এখন শোচনীয়। গ্যাংটক বা ম্যাল রোডের মাঝারি হোটেলগুলোতে আগে যেখানে সপ্তাহে ডজনখানেক বাণিজ্যিক সিলিন্ডার লাগত, এখন সেখানে গোটা সপ্তাহে মাত্র একটা জোগাড় করতে কালঘাম ছুটছে মালিকদের। ফলে অনেক হোটেলই এখন পর্যটকদের চেক-নের আগেই সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে,‘খাবারের বায়না করবেন না’। কেউ কেউ তো লোকসান সামাল দিতে না পেরে মাঝপথেই বুকিং বাতিলও করছেন। যদিও সে পরিমাণ সামান্যই। বিকল্প হিসেবে ইনডাকশান কুকার বা বৈদ্যুতিক হিটার কাজে লাগানোর চেষ্টা চললেও লো-ভোল্টেজের ধাক্কায় সেই আশাতেও জল পড়ছে।

    রান্নার খরচ বাড়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পর্যটকদের পকেটে। হোটেলের বিলের নিচে এখন নিঃশব্দে জুড়ে যাচ্ছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘এনার্জি সারচার্জ’। কালোবাজারি থেকে চড়া দামে গ্যাস কিনে যারা রান্না চালাচ্ছেন, তারা সেই বাড়তি দাম উসুল করছেন পর্যটকদের থেকেই। ফলে হিমালয়ের কোলে বসে প্রিয় খাবার খাওয়ার আনন্দ এখন বেশ মহার্ঘ। অনেক জায়গায় তো আবার রুম সার্ভিসের ওপর আলাদা মাসুল বসানো হয়েছে।

    সবচেয়ে বড় কোপ পড়েছে ভোজনরসিকদের পাতে। যে সমস্ত পদ রান্না করতে বেশি সময় বা আঁচ লাগে, মেনু কার্ড থেকে সেগুলো এখন ব্রাত্য। মাটন কারি, দম বিরিয়ানি বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ফোটানো ট্রেডিশনাল পাহাড়ি স্টু এখন অমিল। বদলে থালায় জায়গা করে নিচ্ছে পাউরুটি, ডিম সেদ্ধ বা চটজলদি তৈরি ম্যাগি ও স্যান্ডউইচ। বড় রেস্তোরাঁগুলো তাদের বিশাল মেনু ছেঁটে ফেলে এখন ‘লিমিটেড মেনু’ বা ‘ফিক্সড থালি’তে মন দিচ্ছে। উনুন জ্বালানোর সময়টুকু বাঁচানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।

    দার্জিলিং পাহাড়ের এক হোটেল ব্যবসায়ী জিৎ প্রধান জানিয়েছেন, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি পরিস্থিতি সামাল দিতে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪-৫ হাজার টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। কোথাও কোথাও খাবারের মেনু কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেসিক খাবারগুলি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও আবার খাবারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গ্যাসের দামের বাড়তি খরচ তুলতে। শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ী তাপসসাধন রায় জানিয়েছেন, আমরা এটুকু চেষ্টা করছি কেউ যেন কোথাও অভুক্ত না থাকে। পর্যটক সঙ্কটের মধ্য়েও পাহাড়ে আসছে। আর পর্যটকদের উপর নির্ভর করেই ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনিও স্বীকার করেছেন, খাবার চাহিদামতো দেওয়া যাচ্ছে না।

    পরিস্থিতি সামলাতে সিকিম প্রশাসন ইতিমধ্যেই ‘এলপিজি ওয়ার রুম’ খুলেছে। নিয়ম করা হয়েছে, ইচ্ছে করলেই যখন-তখন সিলিন্ডার পাওয়া যাবে না; শহরাঞ্চলে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক। ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টগুলোতে পুলিশের পাহারা বসানো হয়েছে যাতে কালোবাজারি না হয়। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের হেঁশেল যে ঠান্ডা হয়েই থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

    সব মিলিয়ে, কাঞ্চনজঙ্ঘার টানে পাহাড়ে গিয়ে যদি দেখেন পছন্দের রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে বসে আছে, তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যারা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য একটাই টিপস,সঙ্গে ড্রাই ফ্রুটস বা বিস্কুটের প্যাকেট রাখতে ভুলবেন না। কারণ, পাহাড়ের অনিশ্চয়তা এবার কেবল মেঘে নয়, মিশে আছে এলপিজি-র পাইপলাইনেও।

     
  • Link to this news (আজ তক)