ইরানের অবরোধ সত্ত্বেও হরমুজ় প্রণালী দিয়ে এখনও পর্যন্ত আটটি তেল এবং এলপিজি গ্যাসবাহী জাহাজ পার করিয়ে এনেছে ভারত। এই খবর মিলেছে সরকারি সূত্রে। ভারত, রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান-সহ পাঁচ দেশকে নির্বিঘ্নে হরমুজ় থেকে জাহাজ বার করে নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছিল ইরান। হিসাব বলছে, এই দেশগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত ভারতেরই সবচেয়ে বেশি জাহাজ হরমুজ় পেরোনোর ছাড়পত্র পেয়েছে।
শনিবারই নির্বিঘ্নে হরমুজ় পেরোতে সক্ষম হয়েছে ভারতের রান্নার গ্যাসবাহী জাহাজ গ্রিন সানভি। হরমুজ় পেরিয়ে তা ভারতের দিকে রওনা দিয়েছে। সূত্রের দাবি, কিছু দিনের মধ্যে গ্রিন আশা এবং জগ বিক্রম নামে আরও দু'টি জাহাজ হরমুজ় পার করবে। এখনও পর্যন্ত যে আটটি জাহাজ হরমুজ় পেরিয়েছে, সেগুলি হলো, শিবালিক, নন্দাদেবী, জগ লড়কি, পাইন গ্যাস, জগ বসন্ত, বিডব্লু টায়ার, বিডব্লু এলম এবং গ্রিন সানভি। সূত্রের দাবি, উপসাগরীয় এলাকায় ভারতের ১৫টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। তাতে সব মিলিয়ে নাবিকের সংখ্যা ৫০০-র কাছাকাছি। ভারতীয় নৌসেনা সেগুলিকে নির্বিঘ্নে দেশে ফেরানোর কাজ করছে।
ভারতের অশোধিত তেল আমদানির অর্ধেকের বেশিই আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যে পথ পেরিয়ে তেল-গ্যাসের জাহাজ ভারতে প্রবেশ করত, সেই হরমুজ়ই অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। হুঁশিয়ারি দেয়, কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এগোনোর চেষ্টা করে, তবে পরিণতি ‘সাংঘাতিক’ হবে। কয়েকটি জাহাজে হামলাও হয়। তবে পরবর্তী কালে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। কয়েকটি দেশের জাহাজ পারাপারের ‘অনুমতি’ দেয় ইরান। ইরানের ‘বাধা’ সরে যেতেই একে একে ভারতীয় জাহাজ পার হতে শুরু করেছে হরমুজ় প্রণালী।