• ‘স্বশাসিত অভয়া বাহিনী’ থেকে ৬ হাজার টাকা বার্ধক্য ভাতা, বামেদের ইস্তেহারে আর কী প্রতিশ্রুতি?
    এই সময় | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ইস্তেহার প্ৰকাশ করল বামফ্রন্ট। নির্বাচনের পরে বামফ্রন্ট সরকার গঠন করলে সাধারণ মানুষের জন্য কী কী করবে সে ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    ১) বামেদের ইস্তেহারে প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে যুব সম্প্রদায়ের জন্য কর্মসংস্থান। প্রতিটি পরিবারের একটি স্থায়ী কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক নিবন্ধিত বেকারকে ২টি চাকরির খোঁজ, গরিব মানুষের জন্য শহরে বছরে ১২০ দিন ও গ্রামে ২০০ দিন কাজ, ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরি দেওয়া হবে।

    ২) রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পথে নেমেছিল বামেরা। শিক্ষক থেকে পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিরোধী দল হিসেবে আওয়াজ তুলেছিল বামফ্রন্ট। এ বার ইস্তেহারে জানানো হলো, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে, ফি বছর এসএসসি, সিএসসি, পিএসসির পরীক্ষা নেওয়া হবে।

    ৩) এর পরেই রয়েছে রাজ্যে শিল্পায়নের বার্তা। ভারী ও মাঝারি শিল্প ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে পুনরুদ্ধার, নতুন সফ্টওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পার্ক ও প্রতি জেলায় শিল্প তালুক নির্মাণের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ৪) কৃষকদের কথা মাথায় রেখে ১৬টি ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্য দেড় গুণ করার কথা জানানো হয়েছে।

    ৫) শ্রমিক সমাজের স্বার্থে নূন্যতম মজুরি ৭০০ টাকা, সমকাজে সমমজুরি, কর্মরত নারী শ্রমিকদের জন্য ক্রেশ, তৃতীয় লিঙ্গ ও কুইয়ার শ্রমিকদের জন্য সমকাজে সমমজুরি, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মীর মর্যাদা দেওয়া হবে।

    ৬) শিক্ষায় রাজ্য বাজেটের ২০ শতাংশ, স্বাস্থ্যে ১০ শতাংশ বরাদ্দ, স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি মকুব, প্রতি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।

    ৭) জেলায় জেলায় বিদ্যুতের জন্য প্রিপেড স্মার্ট মিটার বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি যাঁরা আয়করদাতা নন, তাঁদের জন্য ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দামে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে।

    ৮) পালাবদলের পরে ‘সারদা চিটফান্ড’ কেলেঙ্কারি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল রাজ্যে শাসকদলকে। বামেদের ইস্তেহারে জানানো হয়েছে, মাইক্রো ফিন্যান্স সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ৯) নিয়োগ দুর্নীতি ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বামেরা। সেই কথা মাথায় রেখে ইস্তেহারে দুর্নীতি বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    ১০) বামেদের ইস্তেহারে রয়েছে নারী নিরাপত্তার বিষয়টিও। তমন্নার মা, অভয়ার ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি নারী নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতি জেলায় ‘স্বশাসিত অভয়া বাহিনী’ গঠন করা হবে।

    ১১) নদী ভাঙন রোধে নতুন কর্মসূচি, খাল, বিল, পুকুর, জলাভূমি ও নদী রক্ষায় কঠোর আইন আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    ১২) প্রতিটি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ‘স্বাস্থ্য সেবা’ প্রকল্প এবং সব দরিদ্র প্রবীণদের জন্য মাসিক ৬ হাজার টাকা বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে।

    ১৩) পৃথক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নতিতে। নতুন স্কুল-কলেজ নির্মাণ, উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি ও সংরক্ষণ, পৃথক উন্নয়ন বোর্ড, আদিবাসীদের জমি ও বনাধিক রক্ষার কথা জানানো হয়েছে ইস্তেহারে।

    এ বারের নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার পথে হাঁটেনি বামফ্রন্ট। অন্য দিকে, ISF-এর সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়েও উচ্চবাচ্য করেনি কোনও পক্ষই। একাধিক দফায় প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করা হয়েছে। বামেদের এই ইস্তেহার কি শূন্যের গেরো কাটাতে সাহায্য করবে? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।

  • Link to this news (এই সময়)