বছর দু’য়েক আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikary) এক শিখ পুলিশ অফিসারকে ‘খালিস্তানি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে শনিবার হাইভোল্টেজ ভবানীপুরে (Bhowanipore) প্রচারে গিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজনের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো তাঁকে। উঠল পুরোনো খালিস্তানি প্রসঙ্গ। এ দিন শুভেন্দু অবশ্য পুরো ঘটনার কথা অস্বীকার করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। সন্দেশখালিতে নারী নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল গোটা রাজ্য। সেই সময়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সন্দেশখালি যাচ্ছিলেন শুভেন্দু নিজে। অভিযোগ, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পথেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। সেখানে এক শিখ পুলিশ অফিসারও ছিলেন। অভিযোগ, তাঁকেই খালিস্তানি বলে কটাক্ষ করেছিলেন শুভেন্দু। অবশ্য এই নিয়ে শোরগোল হতেই পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি।
সেই নিয়েই এ দিন বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো শুভেন্দুকে। ভবানীপুরের বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার করছিলেন তিনি। চলছিল শুভেচ্ছা বিনিময়, ভোট প্রার্থনা। ছিলেন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজনেরাও। তাঁরাই খালিস্তানি কটাক্ষের কথা মনে করিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু জানান, তিনি এই কথা বলেননি। তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়। শুভেন্দু নিজের বক্তব্যেই অনড় থাকেন। হাতজোড় করে জানান, কোনও শিখ পুলিশ অফিসারকেই তিনি খালিস্তানি বলেননি। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমা চান বলেও জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় শুভেন্দুকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে তারা লিখেছে, ‘কুকর্মের ফল। পালানোর আর কোনও পথ নেই। সম্মানিত শিখ আইপিএস অফিসারকে খালিস্তানি বলে যে সস্তা ও জঘন্য মন্তব্য করেছিলেন, তার জেরেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো।’ শুভেন্দুকে সাম্প্রদায়িক বলেও কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
গত ২ এপ্রিল শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়েও তুমুল অশান্তি হয়েছিল ভবানীপুরে। হাজরা থেকে র্যালি করে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখান। পাল্টা বিক্ষোভ-স্লোগানিং চলে গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকেও।