• ভোটের বাজারে কেরলের থেকে অসমকে বেশি গুরুত্ব বিজেপির
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অসম এবং কেরল—দুটো রাজ্যেই ৯ এপ্রিল ভোট। গত ১৫ মার্চ অসম, কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকে কার্যত অসমকেই পাখির চোখ করেছে বিজেপি। কেরলে প্রচার হচ্ছে না এমন নয়। কিন্তু অসমের ঝাঁঝ, কেরলে দেখা যাচ্ছে না। প্রচার চলছে অনেকটাই দায়সারা।

    অসমে ভোটপ্রচারে গিয়ে মোদি-শাহরা টার্গেট দিয়ে দিচ্ছেন। কত আসনে জিতবে বিজেপি, তার সংখ্যা পর্যন্ত বলে দেওয়া হচ্ছে। এবার যেমন বিজেপির দাবি, ৯৬ থেকে ১০০টি আসনে জিততে চলেছে তারা। সেখানে কেরলে শুধুমাত্র সুযোগ দেওয়ার আর্জি জানাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। নির্বাচনি প্রচারে অসমে বিগত ১০ বছরের কাজের খতিয়ান তুলে ধরা হচ্ছে । কেরলে সেই সুযোগই নেই। ফলে স্টার ক্যাম্পেনারদের কাছে নতুন কোনো তথ্যও নেই। কেরলের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের মোদি জমানার ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে। রাজ্যে সিপিএম, কংগ্রেসের বিরোধিতা করাই একমাত্র ইস্যু বিজেপির। অসমে ভোট প্রচারে অনুপ্রবেশের প্রেক্ষিতে বাংলার প্রসঙ্গও টানতে পারছে বিজেপি নেতৃত্ব। বস্তুত, বাংলা ও অসমে গেরুয়া শিবিরের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুই হল এই অনুপ্রবেশ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তো আবার নিয়ম করে বিরোধী নেতা গৌরব গগৈকে আক্রমণ করতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টানছেন। এসব কিন্তু কেরলে অনুপস্থিত।

    আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে কেরলে তেমন সক্রিয় হননি। বরং সেখানে বেশি প্রচার সারছেন বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংরা। অন্যদিকে অসমে হিন্দুত্বকে বেশি করে তুলে ধরতে তৎপর বিজেপি। হিমন্ত বিশ্বশর্মা নিজেই এই প্রচারে বড় বাহক। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অমিত শাহ। আবার হিন্দুত্বের পোস্টার বয় যোগী আদিত্যনাথও প্রচারে ঝাঁজ বাড়িয়েছেন। অমিত শাহ নিজেই চারবার অসম গিয়েছেন, নীতিন নবীন গিয়েছেন তিনবার। সভা করেছেন মোদিও। সবমিলিয়ে অসমে রীতিমতো চাঁদের হাট বসিয়েছে বিজেপি। সেই তুলনায় কেরল অনেক ম্রিয়মান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোড শো করেছেন। তবে নির্বাচনি সভাতে এখনও দেখা যায়নি অমিত শাহকে। তিনি শুধু বৈঠক করেছেন। ভোটের আগে দক্ষিণী রাজ্য কেরল নিয়ে একাধিক গালভরা কথা বলেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। 

    রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল প্রশ্ন তুলছে, বড়ো বড়ো দাবি সত্ত্বেও কেরলে কোনোমতেই দাঁত ফোটানো যাবে না বুঝতে পেরেই দক্ষিণী রাজ্যের পরিবর্তে ‘ফোকাস’ 

    উত্তর-পূর্বের অসমে সরিয়ে নিতে চাইছে বিজেপি?  
  • Link to this news (বর্তমান)