শংকরকে ‘নন পারফর্মিং এমএলএ’ বলছেন অশোক, হতবাক প্রাক্তন শিষ্য
বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: এক সময়ের ‘গুরু-শিষ্য’ নির্বাচনি ময়দানে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। এতে ভোটের উত্তাপ বাড়ছে শিলিগুড়িতে। গুরু অশোক ভট্টাচার্য শিলিগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষকে ‘নন পারফর্মিং এমএলএ’ বলে কটাক্ষ করছেন। অন্যদিকে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর অশোকবাবুর পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগানোর পুরনো স্মৃতি স্মরণ করে অশোকবাবু কীভাবে এমনটা বলতে পারেন তা নিয়ে হতবাক শংকর। যদিও অশোকবাবুর উদ্দেশ্যে তির্যক মন্তব্য বা কটাক্ষ করতে চাননি শংকর। তবে আচমকা ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে কেন এমন মন্তব্য করছেন তাঁর প্রাক্তন ‘গুরু’ তার কারণ খুঁজে বের করতে চাইছেন তিনি। সবমিলিয়ে দু’জনের এই তরজা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের।
অশোকবাবু বলেন, আমি কোনো অসংবিধানিক কথা বলিনি। বিধায়ক নন পারফর্মিং, সেটা সকলেই বুঝেছেন। আসলে যে দলের তিনি বিধায়ক সেখানে কাজের চেয়ে ধর্মের নামে ভোট প্রার্থনা করাই রীতি।
অন্যদিকে অশোকবাবুর এই মন্তব্য প্রসঙ্গে শংকর বলেন, আমি এক সময় অশোকবাবুর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আমি কখনও তাঁর বিষয়ে কোনো কটূক্তি করিনি, প্রশংসাই করেছি। তবে আচমকা এই নির্বাচনের আগে আমাকে যেভাবে তিনি লাগাতার আক্রমণ করছেন তা ভাবতে পারছি না।
শনিবার নিজের নির্বাচনি কার্যালয়ে বিজেপি প্রার্থী উজ্জ্বল মিত্র নামের এক প্রাক্তন সিপিএম কর্মীকে দলে যোগদান করান। শঙ্করের দাবি, উজ্জ্বলবাবু গত পুরসভা নির্বাচনে অশোকবাবুর নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন। ঘনিষ্ঠ মহলে শংকর দাবি করেন, সিপিএম ছাড়ার সময়ে তিনি ওই দলের কাউকে নিজের সঙ্গে বিজেপিতে যোগদান করার জন্য চাপ দেননি। তবে ওই দলের অনেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। এটা তেমনই একটি যোগদান মাত্র।
যদিও শংকরের এই দাবি কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন অশোকবাবু ও দলের জেলা সম্পাদক সমন পাঠক। দুজনেরই দাবি, উজ্জ্বল মিত্র পুরসভা নির্বাচনের পর থেকে দলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করেননি। কাজেই তিনি কোন দলে যোগ দিয়েছেন তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। তাঁদের কথায়, ওই ব্যক্তি আমাদের দলের সঙ্গে এখন কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না। কাজেই তিনি কোথায় যোগ দিলেন বা দিলেন না তাতে দলের কিছু আসে যায় না।