• ২৫ বছর পুর পরিষেবা দেওয়ার ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় কানাইয়ালাল
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: ‘এক কাটে ভারে, আরেক কাটে ধারে’। ভোট-যুদ্ধে জয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ভার ও ধার দুটোই ফ্যাক্টর। ইসলামপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। কিন্তু ভার ও ধারে তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়াল অনেকটা এগিয়ে, মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধীদের অনুন্নয়নের ইস্যুকে কাটতে উন্নয়নকে হাতিয়ার করেছে জোড়াফুল।

    এবারের তৃণমূল প্রার্থী তথা দলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল। ২৫ বছর ধরে পুরসভার চেয়ারম্যান পদে আছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে বিধায়ক হয়েছিলেন। ২৫ বছরের পুর পরিষেবার ফসল তোলার পালা এসেছে এবার। গ্রামাঞ্চলেও সুপরিচিত কানাইয়া। ১১ বারের বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা আব্দুল করিম চৌধুরীর গড় ইসলামপুরে এবার দল তাঁকে প্রার্থী করেনি। কিন্তু করিম তাতে প্রতিবাদ করেননি। প্রতিক্রিয়াও দেননি। কার্যত নীরবে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে করিম-কানাইয়ার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের উত্তাপও আর নেই। যা প্রার্থীর কাছে মরুভূমিতে একরাশ শীতল হাওয়ার মতো স্বস্তি এনেছে। এতে বিরোধীদের ভোট কাটাকাটির সুযোগও মাঠে মারা গিয়েছে।

    পাড়ার ঠেক থেকে চায়ের দোকান, সর্বত্রই কান পাতলে শোনা যাচ্ছে ভোটের চর্চা। করিমের অনুপস্থিতি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী সহ অন্য প্রকল্পের সুফল এবার কানাইয়ার কাছে অ্যাডভান্টেজ। এসআইআরে সাধারণ মানুষের হয়রানিও এবার অনুকূলে। কানাইয়ালালের কথায়, এবারে অন্তত ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হব।

    অন্যরা থাকলেও ইসলামপুরে এবার দ্বিমুখী লড়াই— তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। ২০২১ এর নির্বাচনে তৃণমূল ১ লক্ষ ১৩১ ভোট পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৬২ হাজার ৬৯১ ভোট। প্রায় ৩৮ হাজার ভোটে জয়ী হয় তৃণমূল। সেবার বামেদের সঙ্গে জোট হয়েছিল কংগ্রেসের। কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৪৬১ ভোট। সিপিএমের জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য বিকাশ দাস বলেন, আমাদের পুরানো ভোট ফিরে আসবে। লড়াই ত্রিমুখী হবে। মানুষ ১৫ বছর তৃণমূলের শাসন দেখেছে। তৃণমূলকে হঠাতে যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল, তাদের সেই আশা ভঙ্গ হয়েছে। এবার মানুষ ফিরবে।

    ডবল ইঞ্জিন সরকারের স্বপ্ন, মোদির ছবি, স্থানীয় ইস্যু নিয়ে বিজেপিও ইসলামপুরে পদ্মের চাষ করতে মরিয়া। তাদের নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংকও রয়েছে। বিজেপি প্রার্থী চিত্রজিৎ রায় বলেন, তৃণমূলের জমানায় দলের নেতারা ধনী হয়েছে। সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান হয়নি। কানাইয়াবাবু দু’দশকেরও বেশি সময় পুরসভার চেয়ারম্যান। কিন্তু নাগরিকরা এখনও পর্যাপ্ত পুর পরিষেবা পাচ্ছেন না। শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ। বাড়ি বাড়ি জল পরিষেবা নেই। শহরে যানজট। ডাঙাপাড়ায় দোলঞ্চা নদীর উপর ব্রিজ হয়নি। কংগ্রেস প্রার্থী গুড্ডি রিয়াজ বলেন, তৃণমূল উন্নয়ন করতে ব্যর্থ। তৃণমূলের অনুন্নয়নই আমাদের হাতিয়ার।
  • Link to this news (বর্তমান)