• জিতব আমরাই, শাহকে চ্যালেঞ্জ মমতার
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • সন্দীপন দত্ত, মালদহ: মালদহের মাটিতে দাঁড়িয়ে অমিত শাহকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষের লাগাতার হয়রানির বিরুদ্ধে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাঁর ঘোষণা—জিতব আমরাই। বদলা হবে, আর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই হবে। ভোটপ্রচার পর্বে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই যাবতীয় চক্রান্তের কারিগর বলে দাবি করে আসছেন মমতা। শনিবারও তার অন্যথা হয়নি। চাঁচাছোলা ভাষায় তাঁর আক্রমণ, ‘বাংলায় তোমার ঠাঁই নাই। আমাদের উপরে হামলা করলে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বদলা নেব। বিজেপি অত্যাচারের সীমা ছাড়িয়েছে। আজ ভোট কেটেছে, কাল বাড়ি কাড়বে। জোট বাঁধুন, তৈরি হন, বিজেপিকে রুখে দিন।’

    দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালদহে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি ছিল। প্রথমে মানিকচক, মাঝে সামসি ও গাজোল এবং সবশেষে ইংলিশবাজার শহরে র‍্যালি। প্রত্যেকটি কর্মসূচি থেকেই এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে খোলা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন মমতা। মালদহে এসআইআরের কারণে শয়ে শয়ে মানুষের নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গে নেত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ছিল বলে বিচারাধীন ২২ লক্ষ নাম তুলতে পেরেছি। বেছে বেছে সংখ্যালঘু, রাজবংশী, মতুয়াদের নাম কেটেছে। আমি জানি, গতবার যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল, এবার তারা আর দেবে না। ওরা করছে লুট, আর বলছে ঝুট।’

    এদিন মানিকচকের সভায় উপস্থিত জনতার কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে চান, এসআইআরে কতজনের নাম কেটেছে? উপস্থিত সকলে হাত তুলে দেন। তা দেখে স্তম্ভিত নেত্রী বলেন, ‘এই ছবি তুলে রাখো। মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি। বাংলার মানুষ প্রস্তুত আছে। ছাব্বিশেই দিল্লিতে বিজেপির পতন হবে। ওরা বাংলাকে টার্গেট করেছে, আমরা দিল্লিকে টার্গেট করেছি। তৈরি থাকুন মোটা ভাই। গণতান্ত্রিকভাবে বদলা নেব। এবারে লড়াই বাংলা বাঁচানোর লড়াই। এবার দুরন্ত খেলা হবে, বিজেপিকে পরাস্ত করার খেলা।’ 

    এদিনের প্রত্যেক সভা থেকেই অমিত শাহকে একাধিকবার নিশানা করেন মমতা। বলেন, ওয়াকফ নিয়ে কেউ কেউ ভুল বোঝাচ্ছে। আমরাই ফাইট করেছিলাম। এখন ওটা ইমামদের হাতে। আমরা বিজেপির হাতে ছাড়িনি। কিন্তু এই মোটা ভাই পারে না, এমন কাজ নেই। ও ধ্বংস করতে জানে। তবে যতই চেষ্টা করো, জিতবে না ভাই।’

    অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘সীমান্ত দিয়ে নেশার দ্রব্য, টাকা ঢুকিয়ে রাজ্যকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। আমি শুনেছি, বাইরের রাজ্য থেকে বাসে-ট্রেনে করে লোক ঢোকানো হচ্ছে। মুসলিমরা যদি সত্যিই খারাপ হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী যখন সৌদি আরব যান, সেখানে গলা জড়ান কেন? তখন মনে থাকে না, ওরা হিন্দু না মুসলিম? আমরা সকলে দুবাই গিয়েছি। ওরা আমাদের সকলকে ভালোবাসে। কিন্তু মোদিবাবু যখন ওখানে একপাতে খান, তখন আপনার জাত যায় না? একদিকে মুখ, আর একদিকে মুখোশ!’

    বাংলার মানুষের হয়ে এই ভোটযুদ্ধে কংগ্রেসকেও নিশানা করতে ছাড়েননি মমতা। তিনি বলেন, ‘এখন তরমুজ-খরমুজ আবার এক হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস! লজ্জা করে না? যখন এসআইআরের বিরুদ্ধে লড়েছিলাম, দিল্লি যেতে বলেছিলাম। ওরা যায়নি।’ মমতা নিশানা করেন মিমকেও। তিনি বলেন, ‘এসআইআরের সময় ঘোড়ার ডিমগুলো কোথায় ছিল? যখন মানুষের নাম কাটছিল এসআইআরে, কোথায় ছিল হায়দরাবাদের এই নেতারা?’ 
  • Link to this news (বর্তমান)