• শিল্পসেতুর কাজ শুরুতেই রায়না-খণ্ডঘোষে বাড়তি সুবিধা তৃণমূলের
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, রায়না: দামোদরের উপর শিল্পসেতু তৈরির কথা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদৌ তা হবে কি না, তা নিয়ে বিজেপি সংশয় প্রকাশ করেছিল। তবে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হতে চলেছে। শিল্পসেতুর কাজ কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এই সেতুই রায়না এবং খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে। স্থানীয়রাও বলছেন, এই সেতু তৈরি হলে বহুদিনের সমস্যা মিটে যাবে। তৃণমূলের জমানায় এটা বড় অবদান। আজ, রবিবার রায়নার শ্যামসুন্দরে সভা করতে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি মঞ্চ থেকে তৃণমূলের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরবেন। তারমধ্যে অন্যতম শিল্পসেতু তৈরির কাজ। 

    স্থানীয় বাসিন্দা শানু দাস বলেন, এলাকায় অনেক কাজ হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামেও রাস্তা হয়েছে। দামোদরের উপর সেতু খুব দরকার ছিল। সেটার কাজ সত্যি সত্যিই শুরু হয়ে যাবে, ভাবতে পারেনি। আর এক বাসিন্দা অলোক ভট্টাচার্য বলেন, সব গ্রামে পানীয় জল এখনো পৌঁছায়নি। রাস্তা হয়েছে। এই সেতু তৈরি হলে কৃষকরাও উপকৃত হবেন। রায়নার বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল নেত্রী শম্পা ধাড়া বলেন, শিল্পসেতু তৈরি আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। বিধায়ক হিসাবে বিভিন্ন জায়গায় দরবার করেছি। এই সেতু তৈরি হলে শুধু এই দুই বিধানসভা কেন্দ্র নয়, হুগলি, বাঁকুড়ার বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন। ভোট দেওয়ার আগে তাঁরা নিশ্চয়ই এসব কথা ভাববেন। 

    খণ্ডঘোষের সিপিএম প্রার্থী রামজীবন রায় বলেন, সরকারকে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ তো করতেই হয়। দক্ষিণ দামোদর কৃষি নির্ভর এলাকা। সরকার চাষিদের কথা ভাবেনি। সেটা হলে আলু চাষিদের এই অবস্থা হত না। সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করার সুযোগ চাষিরা পায় না। ফড়েরা ফায়দা তুলছে। খণ্ডঘোষের বিজেপি প্রার্থী গৌতম ধাড়া বলেন, রাজ্য অধিকাংশ প্রকল্প কেন্দ্রের টাকায় করেছে। তারা কেন্দ্রের সব প্রকল্প নিজেদের বলে চালাচ্ছে। তৃণমূল সরকারি টাকা বিভিন্ন খাতে অপচয় করেছে। ওদের গড়িমসির জন্যই এতদিন সেতু তৈরি হয়নি। সাধারণ মানুষকে খেসারত দিতে হয়েছে। তৃণমূল ভোট প্রচারে বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি শিল্প সেতু তৈরির কথাও তুলে ধরছে। তাদের দাবি, এই এলাকায় চাষিদের জন্য দু’টি ব্লকে কিষান মান্ডি তৈরি হয়েছে। কৃষকবন্ধু বা শস্যবিমা প্রকল্পের সুবিধাও চাষিরা পাচ্ছেন। দক্ষিণ দামোদরে বহু রাইসমিল রয়েছে। শিল্পসেতু তৈরি হলে চাষিরা বিভিন্নভাবে উপকৃত হবেন। এছাড়া ব্যবসারও শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে। এদিন তৃণমূল শ্যামসুন্দরের সভা থেকে উন্নয়নের ফিরস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনের রূপরেখাও তুলে ধরবেন অভিষেক। সভায় উপচে পড়া ভিড় হবে বলেই শাসক শিবির আশাবাদী। রায়নার দু’টি ব্লকের কর্মী এবং সমর্থকরাই এদিনের সভায় আসবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)