সুখেন্দু পাল, মঙ্গলকোট: বদলে গিয়েছে ভোটের মঙ্গলকোট। ২০১১ সালের আগে এই বিধানসভা কেন্দ্র বোমা-গুলির জন্যই সংবাদ শিরোনামে থাকত। ২০০৯ সালের ১৫ জুন ধান্যরুখী গ্রামে সিপিএম নেতা ফাল্গুনি মুখোপাধ্যায় খুনের পর এলাকা সন্ত্রাস লাগাম ছাড়িয়েছিল। বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন, বোমাবাজি, কোনো কিছুই বাকি ছিল না। এখন সিপিএম নেতাদের সুর বদলে গিয়েছে। মানুষের কাছে হাতজোড় করে ভোট চাইছে। আগে এই আচরণ করলে এখানে বিজেপি মাথা তুলতে পারত না। মঙ্গলকোট বিডিও অফিসের কাছে দাঁড়িয়ে এই কথা বললেন কাদের শেখ। তিনি বলেন, এক সময় আমিও সিপিএম করতাম। কিন্তু নেতাদের আচরণ ভালো লাগেনি। মানুষকে দমিয়ে রেখে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু, পারেনি।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, একসময় যারা সিপিএমের হার্মাদ নেতা বলে পরিচিত ছিল তারা এখন দলে নেই। অল্প হলেও কিছু নতুন ছেলেমেয়ে উঠে এসেছেন। তাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার কথা বলছেন। আবার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন। কিন্তু কেউ ধোলাই হবে, পেটাই হবে বলছেন না। এটাই সিপিএমের পরিবর্তন।
মঙ্গলকোট, কৈচর, ক্ষীরগ্রামের মতো বিভিন্ন এলাকা ঘুরলে একবারের জন্যও মনে হবে না এরাজ্যে বিরোধী দল বিজেপি। কোথাও তাদের সেভাবে প্রচার নেই। এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কোথাও সেই আবেগ কাজ করছে না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এই বিধানসভা কেন্দ্রের দ্বিতীয় শক্তি হিসাবে উঠে আসে। কিন্তু জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে ফারাক ছিল অনেক বেশি। তৃণমূল ৪৯.৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়। বিজেপি পেয়েছিল ৩৯.২৩ শতাংশ। এবার কৌশল বদলেছে সিপিএম। তাতে সাড়াও পাচ্ছে।
সিপিএম প্রার্থী মিরাজ আলম প্রচারে বেরিয়ে ১০০ দিনের কাজের বঞ্চনার কথা বলছেন। তিনি বলেন, শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা চাকরি পাচ্ছে না। চাষিরা ফসলের দাম পাচ্ছে না। কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই সরকারই ব্যর্থ। তাই মানুষ আবার বামেদের উপর আস্থা রাখছে। মঙ্গলকোটের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী বলেন, বিজেপি ভালোই জানে, এখানকার মানুষ ওদের চায় না। এখানে বিভাজন করে কোনও লাভ হবে না। আবার প্রতিটি এলাকার বাসিন্দা সিপিএমের অত্যাচারের সাক্ষী। মানুষ জানে, একমাত্র তৃণমূলই তাদের পাশে রয়েছে। এলাকায় শান্তিতে থাকা যায়। বিজেপি প্রার্থী শিশির ঘোষ বলেন, তৃণমূল উন্নয়নের থেকে অনিয়ম বেশি করেছে। এখানকার ছেলেদের কাজের জন্য বাইরে যেতে হয়। এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। তাই মানুষ আমাদের চাইছে।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, অজয়ের পাড়ে শান্তি ফেরা একসময় ছিল বড়ো বিষয়। সেটা তৃণমূলের জমানায় হয়েছে। সিপিএমও বুঝেছে, তাদের পথ ঠিক ছিল না। তারা রূপ বদল করেছে। ফলাফল যাই হোক না কেন, মঙ্গলকোটে শান্তি ফিরিয়ে আনার কৃতিত্ব তৃণমূলকেই দিচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।