• কয়লা মাফিয়াদের দখলে চলে গিয়েছে বিজেপির জেলা পার্টি অফিস: অভিষেক
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • সুমন তেওয়ারি, গৌরাণ্ডি (বারাবানি): ‘কয়লা মাফিয়া, কয়লা চোরদের অধীনে চলে গিয়েছে বিজেপি জেলা পার্টি অফিস।’ শনিবার বারাবনি বিধানসভার গৌরাণ্ডির নির্বাচনি সভা থেকে এভাবেই গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, যাঁরা বিজেপি করেন, তাঁদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখুন। দেখবেন, পুরোটাই দু’নম্বরি। কোনো ভদ্র, শিক্ষিত, মার্জিত মানুষ বিজেপি করে না। ধাপ্পাবাজ, চিটিংবাজ, কয়লা চোর, ধর্ষণ, খুনিরাই এখন শুধু বিজেপিতে।’

    বারাবনির তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়ের সমর্থনে এদিন সভা করেন অভিষেক। সেই সভার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিজেপির বিরুদ্ধে তিনি সুর চড়ান। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ উসকে দিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেন, ‘২০১৪ সালে গ্যাস কিনেছিলেন ৪০০ টাকায়। এখন ব্ল্যাকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। দাম পড়ছে দু’ হাজার, আড়াই হাজার টাকা। এক লিটার দুধের দাম ছিল ২৭ টাকা, এখন তার দাম বেড়ে ৬২ থেকে ৬৪ টাকা। জিরে ১৪০ টাকা কেজি ছিল। এখন বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা। আসলে বিজেপি জনবিরোধী সরকার।’

    তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড এগিন সরব হন সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়েও। তিনি বলেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার আপনাদের এসআইআর লাইনে দাঁড় করিয়েছে। নোটবন্দিতে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। এখন গ্যাসের লাইনে দাঁড় করাচ্ছে। এবার আপনারা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে তৃণমূল পাশের বোতামকে এমন ভাবে টিপুন, যেন বিজেপি সরষে ফুল দেখে।’

    এদিনের সভা থেকে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলকেও সুকৌশলে উস্কে দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘এখানে যাঁকে বিজেপি প্রার্থী করেছে, তাঁর কুকীর্তি বারাবনির মানুষ জানে। জেলা পার্টি অফিসেই তিনজন বিজেপি নেতাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়েছেন। তাঁরা থানায় গিয়ে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করেছিলেন। বিজেপের প্রার্থী এখানে জিতলে বারাবনির মাটিতে দুষ্কৃতীরাজ ফিরে আসবে।’ যদিও বারাবনির বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায় বলেন, ‘চোরের মায়ের বড় গলা। বিজেপির জেলা কার্যালয় কয়লা মাফিয়াদের অধীনে চলে যাওয়ার কোনো প্রমাণ কী তাঁর কাছে আছে? মঞ্চে সবচেয়ে বড়ো দুষ্কৃতী, কয়লা চোরদের বসিয়ে তাঁর এই কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। আমাদের দলের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। সবাই এক হয়ে তৃণমূলকে হারাতে নেমেছি।’

    যদিও তৃণমূলের সেনাপতি এদিনের সভা থেকে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে বিজেপি নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। অভিষেক বলেন, ‘১৫ বছর কাজের খতিয়ান আমরা দেব। আর ১২ বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসে বিজেপি কী করেছে, সেটা নিয়ে আসুক। আমি যে-কোনো জায়গায় বিতর্কে অংশ নিতে রাজি। আমি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের চ্যালেঞ্জ করছি, তাঁরা যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো স্কিম চালু করতে পারেন, তাহলে আমি ভোট চাইতে আসব না। মনে রাখবেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সবাই পান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন আছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আজীবন পাবেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)