• ভোটার তালিকায় নাম বাদ শুনেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু ৯৫ বছরের বৃদ্ধর, শোরগোল বীরভূম জেলাজুড়ে
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ৯৫ বছর বয়সেও আরমান আলিকে বার্ধক্য কাবু করতে পারেনি। অথচ এসআইআরের ‘কল্যাণে’ নাম বাদ যেতেই সব শেষ। ছেলের মুখে নিজের নাম বাদ যাওয়ার খবর শোনার পরই নিথর হয়ে গেলেন দুবরাজপুর ব্লকের পারুলিয়া অঞ্চলের হাজরাপুর গ্রামের এই প্রবীণ। শুক্রবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল শুরু হয়েছে বীরভূম জেলায়। 

    গত কয়েক মাস ধরে সারা বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার জাঁতাকলে পড়ে নিজের দেশেই ‘পরবাসী’ হওয়ার আতঙ্ক মানুষকে তাড়া করছে। আরমান আলির মৃত্যু তারই পরিণতি বলে এলাকাবাসীর বক্তব্য। পরিবার সূত্রে খবর, আরমান সাহেবের নথিতে কোথাও নামের আগে শেখ ছিল, কোথাও মহম্মদ। এই অসংগতির জেরেই এসআইআরের শুনানিতে তাঁর ডাক পড়েছিল। সমস্ত নথি জমা দিলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম ছিল ‘বিচারাধীন’ ছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম পাকাপাকিভাবে বাদ গিয়েছে।  

    শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ছেলে বাড়ি ফিরে যখন বৃদ্ধ বাবাকে জানান, তালিকায় তাঁর নাম নেই। তা শুনেই আরমান সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ। দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘যেদিন শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন, ওই দিন থেকেই অজানা আতঙ্কে ভুগছিলেন আরমান সাহেব। সারাক্ষণ শুধু একটাই প্রশ্ন করতেন আমাদের কি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে? নিজের দেশে মরতেও পারব না?

    এছাড়া কয়েক প্রজন্ম ধরে এই দেশে বসবাস করলেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হাজরাপুর গ্রামের বাসিন্দারাও। জানা গিয়েছে, ওই ২৪৬ নম্বর বুথে অন্তত ২৪ জনের নাম বিচারাধীন ছিল। যার মধ্যে ২০ জনের নাম বাদ পড়েছে। 

    এবিষয়ে তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, কমিশনের এই তুঘলকিপনার বলি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত আতঙ্কের ফল। পাল্টা  বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি দীপক দাসের দাবি, ডেথ সার্টিফিকেটে কোথাও কি লেখা আছে এসআইআরের আতঙ্কেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও এসআইআর আতঙ্ক বলে চালানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। আর ভোটার তালিকা সংশোধন একটি প্রক্রিয়া। মানুষকে ভুল বুঝিয়ে রাজনৈতিক আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তৃণমূলই। এই মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা অনুচিত। তবে, এই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে এক কঠিন বাস্তব। নিজের দেশে জন্ম এবং কয়েক প্রজন্মের বসবাস সত্ত্বেও ভোটাধিকার রক্ষা করতে আর কোনো প্রমাণ লাগে কি? 
  • Link to this news (বর্তমান)